

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে আগুন লাগার ঘটনাটি নিয়ে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া গেছে জানিয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, আগুনটি সম্ভবত ইমপোর্ট কুরিয়ার সেকশন থেকেই শুরু হয়েছিল।
যদিও তিনি বলেন, এটি এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না, তবে প্রাথমিকভাবে এমনটিই মনে হচ্ছে। একাধিক সংস্থা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে, তাদের তদন্ত শেষ হলে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে বেবিচকের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
চেয়ারম্যান জানান, আগুন লাগার সময় বিমানবন্দর থেকে ১৫টি ফ্লাইটকে বিকল্প রুটে পাঠানো হয়। বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় যে যাত্রীরা আটকে পড়েছিলেন, তাদের সবাইকে পরদিন বিকেল ৪টার মধ্যে নির্ধারিত গন্তব্যে পাঠানো সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই বিমানবন্দরের নিজস্ব ফায়ার ইউনিট মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। এরপর সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের দল একত্রে কাজ শুরু করে এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আনুমানিক দুপুর ২টা ১৫ মিনিটের দিকে কার্গো টার্মিনালের ইমপোর্ট অংশে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রথমে কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে ধোঁয়া দেখা গেলে তাৎক্ষণিকভাবে কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে ছুটে যায়।
মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, আমরা মনে করছি আগুন ইমপোর্ট কুরিয়ার সেকশন থেকেই শুরু হয়, কিন্তু এটি এখনো তদন্তাধীন বিষয়। একাধিক তদন্ত কমিটি কাজ করছে। তাদের কাছ থেকেই আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যাবে। নির্ভরযোগ্য তথ্য ছাড়া কোনো অনুমান করা ঠিক হবে না।
তিনি আরও জানান, আগুন লাগার সময় উত্তর পাশে বিমানবাহিনীর হ্যাঙ্গার এবং দক্ষিণ পাশে মূল টার্মিনাল ভবন ছিল, তবে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় আগুন ওই অংশে ছড়াতে পারেনি। আল্লাহর অশেষ কৃপায় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।
চেয়ারম্যান আরও বলেন, প্রথমে আমাদের ফায়ার ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ শুরু করে, এরপর ধাপে ধাপে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা যুক্ত হন। ১০ মিনিটের মধ্যে বিমানবাহিনীর একে খন্দকার ঘাঁটি থেকে তিনটি ফায়ার যান এবং ২০ মিনিটের মাথায় বাসার বিমানঘাঁটি থেকে আরও দুটি যান আসে। সব মিলিয়ে প্রায় ৪০টিরও বেশি ফায়ার ফাইটিং ভেহিকল অংশ নেয় আগুন নেভানোর কাজে।
তিনি জানান, আগুনের সময় টার্মিনালের ভেতরে থাকা কয়েকটি বিমান দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়, যাতে আগুন সেগুলোর দিকে ছড়িয়ে না পড়ে।
বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, উত্তর ও দক্ষিণ দুই দিকেই কাট-অফ মেকানিজম চালু করে আমরা আগুন সীমাবদ্ধ রাখতে পেরেছি। সবার একযোগে কাজের ফলেই বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে আমরা রক্ষা পেয়েছি।
মন্তব্য করুন
