

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা তাঁদের তিন দফা দাবি আদায়ে আন্দোলন আরও তীব্র করেছেন।
আজ (মঙ্গলবার) রাজধানীর শাহবাগে মুখে কালো কাপড় বেঁধে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।
শিক্ষকদের দাবি- বাড়িভাড়া ভাতা ২০ শতাংশে উন্নীত করা, চিকিৎসা ভাতা ৫০০ টাকা থেকে ১,৫০০ টাকায় বৃদ্ধি এবং উৎসব ভাতা ৫০ শতাংশ থেকে ৭৫ শতাংশে উন্নীত করা। দাবি পূরণের প্রজ্ঞাপন আগামী ২২ অক্টোবরের মধ্যে জারি না হলে “যমুনা ঘেরাও” কর্মসূচিরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নেতারা।
সোমবার দুপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনশনস্থলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী এ ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, সোমবার থেকে আমাদের কর্মসূচি আমরণ অনশনে পরিণত হয়েছে। অনেক শিক্ষক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। যদি অনশনে কোনো প্রাণহানি ঘটে, তার দায়ভার নিতে হবে শিক্ষা উপদেষ্টা সি. আর. আবরারকে।
আজিজী জানান, যারা ঢাকায় আসতে পারবেন না, তারা প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত জেলা ও উপজেলা সদরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন।
তিনি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সতর্ক করে বলেন, মাদারীপুরের জেলা শিক্ষা অফিসার শিক্ষকদের আন্দোলন ঠেকাতে নোটিশ জারি করেছিলেন।
আমি তাকে বলেছি এই ন্যায্য আন্দোলনের প্রতিপক্ষ হবেন না। না হলে জেলা শিক্ষা অফিস তালাবদ্ধ করা হবে। পরে নোটিশটি স্থগিত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা সকল ডিসি, এসপি, ইউএনও ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের বলছি উপদেষ্টা আবরারের চক্রান্তে পা দেবেন না। অন্যথায় সারা দেশ থেকে লংমার্চ করে আপনাদের অফিস ঘেরাও করা হবে। আমরা তার কোনো সিদ্ধান্ত মানি না; দ্রুত দাবি মেনে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে, নয়তো তাকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ছাড়তে হবে।
দেলোয়ার হোসেন আরও বলেন, আমরা বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে আলোচনা করেছি। তিনি ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সময় চেয়ে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। সেই সময় পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করব।
এরপরও দাবি না মানলে সারা দেশ অচল হয়ে যাবে, এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে যা বাংলাদেশ আগে দেখেনি।
সরকারি ব্যয়নীতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ প্রকল্পের জন্য সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে -এ অর্থ শিক্ষকদের কল্যাণে ব্যয় করা হোক। বিভিন্ন প্রকল্পে রাখা দুই হাজার কোটি টাকাও শিক্ষকদের দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
আজিজী আরও জানান, শিক্ষক সমাজ এখন ঐক্যবদ্ধ। অনেকেই ছোট সন্তান নিয়ে আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন। আন্দোলনের ঢেউ এখন গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। সরকারের উচিত দ্রুত দাবি মেনে নেওয়া, তাতে সবার মঙ্গল হবে।”
কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি জানাতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম।
তিনি বলেন, প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত কোনো শিক্ষকই জাতীয়করণের বাইরে থাকা উচিত নয়। এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা ২০ শতাংশ বাড়িভাড়া ভাতা চাইছেন, অথচ সরকারি শিক্ষকরা পান ৪৫ শতাংশ এটি সম্পূর্ণ যৌক্তিক দাবি।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের ওপর পুলিশের হামলা দুঃখজনক। সরকার অবিলম্বে তাঁদের দাবি মেনে নিয়ে শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করুক।
মন্তব্য করুন
