

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বাংলাদেশকে ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের শক্তিশালী, জ্ঞানভিত্তিক ও উদ্ভাবনমুখী অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
তিনি বলেছেন, উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। সরকার নীতিগত কাঠামো ও সহায়ক পরিবেশ তৈরি করবে, আর উদ্ভাবনের বাণিজ্যিকীকরণ, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি গ্রহণে বেসরকারি খাতকে অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) ঢাকার শেরাটন হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত ‘ডেভেলপিং ইনোভেশন ইকোসিস্টেম টুওয়ার্ডস আ ট্রিলিয়ন-ডলার ইকোনমি’ শীর্ষক নেটওয়ার্কিং সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আগামী ১২ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর ঢাকার নভোথিয়েটারে ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হবে। এ আয়োজনকে শুধু মেলা বা প্রদর্শনী হিসেবে না দেখে উদ্ভাবন ও শিল্পায়নের টেকসই জাতীয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে বেসরকারি খাত, শিল্পোদ্যোক্তা ও গবেষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান মন্ত্রী।
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। প্রচলিত পণ্য ও সেবার পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি উচ্চ মূল্যসংযোজনী শিল্প এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তি যুক্ত করা না গেলে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখা কঠিন হবে।
তিনি বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও তরুণ উদ্যোক্তারা নতুন উদ্ভাবন নিয়ে কাজ করলেও প্রযুক্তি হস্তান্তর, নিয়ন্ত্রক অনুমোদন, মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক উদ্ভাবন সফলভাবে ব্যবসায় রূপ নিতে পারছে না। এই বিচ্ছিন্নতা দূর করে উদ্ভাবক, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী ও সরকারি সংস্থার সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ উদ্ভাবন ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ চলছে।
তরুণদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাণিজ্যিক রূপ দিতে সরকার ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ স্টার্টআপ তহবিল গঠন করেছে বলেও জানান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী।
দেশীয় শিল্পোদ্যোক্তাদের অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সিলেট, রাজশাহী, যশোরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্মিত হাইটেক ও ইনোভেশন পার্কে আধুনিক অবকাঠামো ও জমি প্রস্তুত রয়েছে। দেশীয় ব্যবসায়ীরা এসব পার্ক পরিদর্শন করে সেখানে নতুন শিল্প স্থাপনের উদ্যোগ নিতে পারেন।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটে দেশের শিল্পকারখানাগুলো যে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে, সরকার সে বিষয়ে সচেতন বলেও জানান মন্ত্রী। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীলরা সমস্যা সমাধানে কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে।
‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এ সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে নিজেদের প্রযুক্তি প্রদর্শন, উদ্ভাবকদের মেন্টরিং ও ইনকিউবেশনে সহযোগিতা এবং উদ্ভাবনের বাণিজ্যিকীকরণে বাধা ও অর্থায়নের ঘাটতি চিহ্নিত করে সরকারকে সুনির্দিষ্ট মতামত দেওয়ার জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এর লক্ষ্য হলো উদ্ভাবক, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়, স্টার্টআপ, শিল্পখাত, বিনিয়োগকারী ও নীতিনির্ধারকদের এক প্ল্যাটফর্মে আনা। এর মাধ্যমে প্রযুক্তির বাণিজ্যিকীকরণ ত্বরান্বিত, টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং জাতীয় উদ্ভাবন ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তরের পথ তৈরি করা হবে।
তিনি বলেন, এ আয়োজনকে শুধু একটি মেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হবে না। আগামী বছরগুলোতেও এটি চলমান রেখে দেশের উদ্ভাবনী যাত্রার ধারাবাহিক অংশ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞান সচিব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও প্রকাশনাকে শুধু কাগজে সীমাবদ্ধ না রেখে শিল্পের বাস্তব সমস্যা সমাধানে কাজে লাগাতে ‘রিসার্চ টু মার্কেট’ কার্যক্রমে জোর দেওয়া হবে। করপোরেট প্রতিষ্ঠান, একাডেমিয়া, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিগত পর্যায়ের উদ্ভাবনকে একটি কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্মে এনে ‘ইনোভেট মার্কেট’-এর মাধ্যমে বাণিজ্যিক রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর, ন্যানোটেকনোলজি ও বায়োটেকনোলজির মতো উদীয়মান প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, বায়োটেক পার্ক স্থাপনে ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পাওয়া গেছে।
সভায় ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা সরকার, শিক্ষাবিদ, গবেষক, শিক্ষার্থী, শিল্পখাত, বিনিয়োগকারী ও উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়িয়ে একটি সমন্বিত জাতীয় উদ্ভাবন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।
নেটওয়ার্কিং সভায় এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হক, ব্যবসায়ী নেতা তপন চৌধুরী, বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খানসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সভায় নীতি সংস্কার, গবেষণার বাণিজ্যিকীকরণ, স্টার্টআপ অর্থায়ন, উদ্ভাবন ব্যবস্থাপনা, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তি গ্রহণ এবং বাংলাদেশকে বৈশ্বিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক উদ্ভাবনকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার বিষয়ে মতামত দেন অংশগ্রহণকারীরা।


