শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শাহজালালের আগুনে ১২ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি, দাবি ইএবির

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০২৫, ০৩:১৫ পিএম আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২৫, ০৩:২৭ পিএম
বক্তব্য রাখেন এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।
expand
বক্তব্য রাখেন এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাথমিকভাবে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইএবি)।

সোমবার (২০ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এ তথ্য তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “এই অগ্নিকাণ্ড দেশের ব্যবসায়ী মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। কার্গো ভিলেজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা দুর্বল, তা এই ঘটনায় স্পষ্ট হয়েছে। আমরা চাই ক্ষতিগ্রস্ত পণ্যের বিমা দাবিগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি হোক। যেসব পণ্য বিমার আওতার বাইরে, তাদের জন্য সরকার যেন একটি বিশেষ সহায়তা তহবিল গঠন করে।”

মোহাম্মদ হাতেম জানান, শুধু ওষুধ শিল্পেই ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০০ কোটি টাকা, যেখানে অন্তত ৩২টি প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ক্ষতির হিসাব আরও বাড়তে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে ইএবি সভাপতি ব্যবসায়ীদের আহ্বান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পণ্যের সঠিক তালিকা তৈরি করে দ্রুত ইএবি’র সঙ্গে শেয়ার করতে, যাতে ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়া সহজ হয়।

তিনি বলেন, “এই ধরনের দুর্ঘটনা কেবল আর্থিক ক্ষতি ডেকে আনে না, বরং বাংলাদেশের রফতানি খাতের ভাবমূর্তিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সময়মতো পদক্ষেপ না নিলে আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হতে পারে।”

উল্লেখ্য, গত শনিবার (১৮ অক্টোবর) বেলা ২টা ১৫ মিনিটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও বিজিবির যৌথ প্রচেষ্টায় প্রায় সাত ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

আগুনে শতাধিক আমদানি-রফতানি পণ্য, পোশাক শিল্পের কাঁচামাল এবং বিভিন্ন কনসাইনমেন্ট সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিস জানায়, স্থায়ী অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষতির মাত্রা বেড়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে আংশিকভাবে কার্গো পরিবহন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছে ব্যবসায়ীরা।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন