

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ঘটনা নিয়ে এখনো নানা প্রশ্ন আলোচনায় রয়েছে। বিশেষ করে তাকে বহনকারী হেলিকপ্টার ও সামরিক পরিবহন বিমানের পাইলট এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পরিচয় ও তাঁদের বর্তমান কর্মস্থল নিয়ে বিভিন্ন মহলে আগ্রহ দেখা যায়।
তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার, সশস্ত্র বাহিনী কিংবা অন্য কোনো দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন বা বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। ফলে প্রচারিত বিভিন্ন তথ্যের স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি।
সামরিক সূত্রের দাবি, ৫ আগস্ট বিকেলে শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানাকে গণভবন থেকে কুর্মিটোলা বিমানঘাঁটিতে নিয়ে যায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি এমআই-১৭ হেলিকপ্টার। ওই হেলিকপ্টারের প্রধান পাইলট ছিলেন এয়ার কমোডর আব্বাস এবং সহকারী পাইলট ছিলেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন রায়হান কবির। বিকেল তিনটার দিকে হেলিকপ্টারটি কুর্মিটোলা বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে।
একই সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, কুর্মিটোলা বিমানঘাঁটিতে আগে থেকেই একটি সি-১৩০ জুলিয়েট সামরিক পরিবহন বিমান প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। পরে শেখ হাসিনা ওই বিমানে করে ভারতের উদ্দেশে রওনা হন। পরিবহন বিমানটির পাইলট ছিলেন এয়ার কমোডর শামীম রেজা এবং কো-পাইলট ছিলেন উইং কমান্ডার মাহফুজ। সূত্রের দাবি, বিমানটি সেদিন সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে ভারতের দিল্লির কাছে হিন্দন বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে।
সূত্র আরও জানায়, নিরাপত্তাজনিত কারণে উড্ডয়নের সময় বিমানের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখা হয়েছিল এবং প্রচলিত রুটের পরিবর্তে বিকল্প আকাশপথ ব্যবহার করা হয়। পরে কলকাতার এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব তথ্যেরও কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
সামরিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনাকে ভারতে পৌঁছে দেওয়ার পর একই বিমান ক্রু ও নিরাপত্তা সদস্যদের নিয়ে ঢাকায় ফিরে আসে।
বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব নিয়েও বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। সূত্রের দাবি, এয়ার কমোডর আব্বাস পরবর্তী সময়ে একটি প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নিতে পাকিস্তান যান। প্রশিক্ষণ শেষে দেশে ফিরে তিনি বিমানবাহিনী সদর দপ্তরের এয়ার হেডকোয়ার্টার ইউনিটের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
গ্রুপ ক্যাপ্টেন রায়হান কবির বর্তমানে বাশার এয়ার বেইজে প্রশাসনিক কর্মকর্তা (ওসি-অ্যাডমিন) হিসেবে কর্মরত আছেন বলেও সূত্র জানিয়েছে।
অন্যদিকে পরিবহন বিমানের পাইলট এয়ার কমোডর শামীম রেজাকে পরে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক প্রশিক্ষণের জন্য ফিলিপাইনে পাঠানো হয় বলে দাবি করা হয়েছে। আর কো-পাইলট উইং কমান্ডার মাহফুজ বর্তমানে বিমানবাহিনীর গোয়েন্দা পরিদপ্তরে দায়িত্ব পালন করছেন বলে সামরিক সূত্রের ভাষ্য।
সূত্র: যুগান্তর