শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আলজেরিয়া ও বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতার জন্য লড়েছে: আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত

এনপিবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২৫, ০৬:০২ পিএম
আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত আবদেলৌআহাব সাইদানি
expand
আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত আবদেলৌআহাব সাইদানি

আলজেরিয়া ও বাংলাদেশের সংগ্রামের মধ্যে সাদৃশ্য রয়েছে মন্তব্য করে আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত আবদেলৌআহাব সাইদানি বলেছেন, উভয় জাতিই স্বাধীনতার জন্য লড়েছে। রাষ্ট্রদূত সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান, যাতে অতীতের ট্র্যাজেডি আর কখনো পুনরাবৃত্তি না ঘটে এবং ন্যায় ও শান্তির ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা যায়।

শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) ঢাকায় অবস্থিত আলজেরিয়ান দূতাবাস “ঐক্য ও অঙ্গীকার” প্রতিপাদ্যে ১৯৬১ সালের ১৭ অক্টোবর হওয়া গণহত্যার ৬৪তম বার্ষিকী উপলক্ষে এক গম্ভীর ও মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। ২০২১ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আলজেরিয়ার জাতীয় প্রবাস দিবস হিসেবে স্বীকৃত এই দিনটি উপনিবেশিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রামী আলজেরিয়ানদের সাহস ও ত্যাগকে স্মরণ করে আসছে।

রাষ্ট্রদূত আবদেলৌআহাব সাইদানি তাঁর মূল বক্তৃতায় ১৭ অক্টোবর ১৯৬১ সালের গণহত্যার ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরেন। তিনি স্মরণ করে বলেন, কীভাবে ত্রিশ হাজারেরও বেশি আলজেরিয়ান নাগরিক প্যারিসে একটি বৈষম্যমূলক কারফিউর বিরুদ্ধে এবং স্বাধীনতার দাবিতে শান্তিপূর্ণ মিছিল করেছিলেন, অথচ ফরাসি পুলিশ তাদের ওপর নৃশংস দমননীতি চালায়, যার ফলে বহু প্রাণহানি ঘটে। রাষ্ট্রদূত একে উপনিবেশিক যুগের সবচেয়ে বর্বর ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, আলজেরিয়ান জনগণের অবিচল সাহসই শেষ পর্যন্ত স্বাধীনতা অর্জনে ভূমিকা রাখে।

অনুষ্ঠানের সূচনা হয় আলজেরিয়ার জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে, এরপর গণহত্যার শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়া মাহফিলের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। বাংলাদেশ স্কাউটস সদস্যরা একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে, যা অনুষ্ঠানে আনন্দের পরশ যোগ করে। পরিশেষে ১৭ অক্টোবর ১৯৬১ সালের গণহত্যা নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়, যা আলজেরিয়ান জনগণের স্বাধীনতার সংগ্রাম ও সাহসিকতার এক অনন্য সাক্ষ্য বহন করে।

বাংলাদেশে অবস্থিত আলজেরিয়ান দূতাবাস এই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মৃতি সংরক্ষণে এবং ন্যায় ও মর্যাদার জন্য আত্মোৎসর্গকারী শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- ইসলামিক পণ্ডিতগণ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, থিংক ট্যাঙ্ক সদস্য, ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দ, বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিনিধি এবং স্কাউটস সংগঠনের সদস্যরা।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন