

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


গত বছরের জুলাই-আগস্টে ছাত্র ও জনতার অংশগ্রহণে যে আন্দোলন হয়েছিল, সেটির পেছনে কোনো একক নেতৃত্ব বা পরিকল্পনাকারী ছিল না বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ তিনি এই মন্তব্য করেন। রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনার তদন্তে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
এই দিনে বিকাল তিনটার পর ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ আটজন আসামির বিরুদ্ধে জবানবন্দির বাকি অংশ উপস্থাপন করেন আসিফ মাহমুদ। এরপর তাকে জেরা শুরু করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।
প্রথমে শাহবাগ থানার সাবেক পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আরশাদ হোসেনের পক্ষে জেরা করেন আইনজীবী সাদ্দাম হোসেন অভি।
আন্দোলনের পেছনে কোনো “মাস্টারমাইন্ড” ছিল কিনা জানতে চাইলে আসিফ মাহমুদ জানান, “২০২৪ সালের ৫ জুন কোটাপদ্ধতি পুনর্বহাল নিয়ে উচ্চ আদালতের রায়ের পর আমরা ৫৮ জন ছাত্র একত্র হয়ে 'বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন' গড়ে তুলি।
এখানে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রভাব ছিল না, এবং আন্দোলনের মধ্যে কারো কোনো প্রধানত্ব ছিল না—সবাই সমান মর্যাদায় সমন্বয়কারী ছিল।
যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কী ব্যবহার করা হতো—এমন প্রশ্নের উত্তরে আসিফ জানান, তাদের মধ্যে ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ ছিল মূল যোগাযোগের প্ল্যাটফর্ম।
তিনি আরও জানান, আন্দোলনের সময় তার ও অন্যান্য সমন্বয়কারীদের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
আন্দোলনের অর্থায়ন, সিদ্ধান্ত ও বিদেশি প্রভাব সম্পর্কে জানতে চাইলে আসিফ মাহমুদ বলেন, এক দফা দাবির কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে আমাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত ছিল। বিদেশি কোনো সংস্থার প্রভাব ছিল না। আন্দোলনের খরচ চালানোর জন্য আমরা নিজেরাই ফান্ড সংগ্রহ করতাম।
চানখাঁরপুলে গুলি চালানোর সময় তিনি কীভাবে উপস্থিত ছিলেন, সে প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আসিফ জানান, ঘটনার সময় তিনি গুলিবর্ষণের স্থল থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে অবস্থান করছিলেন। আইনজীবীর প্রশ্ন ছিল, এত দূর থেকে গুলি করার দৃশ্য দেখা সম্ভব কিনা। জবাবে আসিফ বলেন, “এটা সত্য নয়।”
তিনি তার আগের জবানবন্দিতে জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পুলিশের গুলিতে ঘটনাস্থলে দু’জন মারা যান—এটি তিনি নিজে দেখেছেন।
পরবর্তীতে নিশ্চিত হন, ঐ দিন মোট ছয়জন প্রাণ হারান। পুলিশ ওইদিন চাইনিজ রাইফেল ও শটগান ব্যবহার করে হামলা চালায়।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার দিন দুপুর দেড়টার দিকে আমরা খবর পাই, শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে চলে গেছেন।
এই ঘটনায় দায়ী হিসেবে আসিফ মাহমুদ যেসব ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেন, তারা হলেন:
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল
সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান
আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা
গুলি চালানো পুলিশ সদস্য ও তাদের কমান্ড কর্তৃপক্ষ
এই ঘটনার তদন্তে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ চলতি বছরের ১৪ জুলাই আটজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেছে। অভিযুক্তরা হলেন:
সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান
সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী
রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম
রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল
শাহবাগ থানার সাবেক পরিদর্শক মো. আরশাদ হোসেন
কনস্টেবল মো. সুজন হোসেন
ইমাজ হোসেন
মো. নাসিরুল ইসলাম
এই আটজনের মধ্যে প্রথম চারজন বর্তমানে পলাতক অবস্থায় রয়েছেন। অন্য চারজন বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে আছেন।
মন্তব্য করুন
