

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সরকারি কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত ঋণে কেনা ব্যক্তিগত গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় মাসে ৫০ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ২৫ হাজার টাকায় নামানোর উদ্যোগ নিয়েছিল অর্থ মন্ত্রণালয়। তবে প্রশাসনের তীব্র আপত্তির মুখে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হয়। এ ঘটনায় সরকারের ভেতরেই প্রশ্ন উঠেছে—কার উদ্যোগে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল? নীতিনির্ধারকদের দাবি, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘অতি উৎসাহী’ কিছু কর্মকর্তার কারণেই বিষয়টি সামনে আসে।
সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমানোর এ উদ্যোগ সরকারকে যেমন অস্বস্তিতে ফেলেছে, তেমনি প্রশাসনের মধ্যেও ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সরকারের একাধিক নীতিনির্ধারক জানিয়েছেন, সরকারের কাছে ‘ভালো’ দেখানোর চেষ্টা করতে গিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কিছু কর্মকর্তা পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও পর্যালোচনা ছাড়াই এ উদ্যোগ নেন। গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা কমানোর ফলে প্রশাসনে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে, তা তারা বিবেচনায় নেননি।
গত ৯ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে সরকারি কর্মকর্তাদের মোটরযান রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় মাসিক ৫০ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ২৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়। ওই চিঠিতে সরাসরি ‘প্রধানমন্ত্রীর সদয় নির্দেশনা’ উল্লেখ করা হয়, যা সচিবালয় নির্দেশিকার পরিপন্থী বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
সরকারের ভেতরে এমন মতও রয়েছে, সিদ্ধান্তটি দ্রুত প্রত্যাহার করার ঘটনা আমলাতন্ত্রের চাপের কাছে সরকারের নতি স্বীকারের বার্তা দিয়েছে।
এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
শুধু গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমানোর উদ্যোগই নয়, পূর্ণ বৃত্তি পাওয়া সরকারি কর্মকর্তাদের প্রেষণের (ডেপুটেশন) পরিবর্তে শিক্ষা ছুটি দেওয়ার প্রস্তাবও একই সময়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। এ দুটি বিষয়েই প্রশাসনের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়।
আলোচনা ছাড়াই সিদ্ধান্ত
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি অর্থ মন্ত্রণালয়। এমনকি এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করলে সরকারের কত অর্থ সাশ্রয় হবে, সে বিষয়েও নির্দিষ্ট কোনো হিসাব উপস্থাপন করা হয়নি।
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠির ভাষাও ছিল সচিবালয় নির্দেশিকার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। সরকারি চিঠি প্রণয়নের প্রচলিত বিধি অনুসরণ না করেই তড়িঘড়ি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
একই দিনে উপসচিব ও তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের জন্য ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত গাড়ি ঋণের সুবিধা বন্ধের সিদ্ধান্তও জানানো হয়। ফলে প্রশাসনের ভেতরে অসন্তোষ আরও বাড়ে।
৯ জুলাই পাঠানো চিঠিতে অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, সীমিত সম্পদের যথাযথ ব্যবহার, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সুদমুক্ত ঋণে গাড়ি কিনে মোটরযান রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা পাওয়া কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে মাসিক ভাতা ৫০ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ২৫ হাজার টাকা করার সুযোগ রয়েছে।
এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ব্যবস্থা নিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানো হয়।