বুধবার
২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গুরুত্বপূর্ণ পদে যোগ্যদের অগ্রাধিকার, বদলাচ্ছে প্রশাসন

এনপিবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৩ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে পদোন্নতি, পদায়ন ও দায়িত্ব বণ্টনে রাজনৈতিক বিবেচনার অভিযোগ ছিল। বিশেষ করে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপিঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত একাংশ কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছেন—এমন অভিযোগ প্রশাসনের ভেতরে-বাইরে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত ছিল।

রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে অনেক কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের বাইরে রাখা হয়। কেউ দীর্ঘ সময় একই পদে কর্মরত ছিলেন, আবার কাউকে তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রাখা হয়। অনেক কর্মকর্তাকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও বঞ্চিত হিসেবে পরিচিত অনেক কর্মকর্তা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে প্রত্যাশিতভাবে স্থান পাননি। তবে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর প্রশাসনে পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

সরকারের পক্ষ থেকে প্রশাসনে দক্ষতা, মেধা ও পেশাদারিত্বকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধিদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন করে দায়িত্ব বণ্টন ও পদায়ন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, প্রশাসনকে আরও কার্যকর, গতিশীল ও দক্ষ করে গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত কয়েকজন কর্মকর্তাও এখন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পেয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমান সরকার প্রশাসনে দক্ষতা, মেধা ও পেশাদারিত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। তবে প্রশাসনের দক্ষ ও পেশাদার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে নানা ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে বর্তমান প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তাদের দাবি, ব্যক্তিস্বার্থ ও অনৈতিক সুবিধা আদায়ে ব্যর্থ হওয়ার পরই একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রচারণা শুরু করেছে। বিভিন্ন মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে জনমনে ভুল ধারণা সৃষ্টি এবং সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চলছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আরও বলেন, “দায়িত্বশীল পদে কর্মরত কর্মকর্তারা সরকারের কর্মচারী হিসেবে দেশের জনগণের সেবায় আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেন।”

প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, যোগ্যতা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বকে প্রাধান্য দিয়ে দায়িত্ব বণ্টনের এই ধারা অব্যাহত থাকলে প্রশাসনের কার্যকারিতা ও সেবার মান আরও উন্নত হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অভিযোগও অনেকাংশে দূর হবে বলে তারা মনে করছেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন