

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাবেক উপাচার্য ও বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দিন আহমদের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
‘প্রফেসর এমাজউদ্দিন আহমদ রিসার্চ সেন্টার’ ও ‘বাংলাদেশ জাতীয় সাংবাদিক সমিতি’র যৌথ উদ্যোগে আজ শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে এই সভার আয়োজন করা হয়।
পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই স্মরণসভায় বক্তারা এমাজউদ্দিন আহমদের জীবন ও কর্মের ওপর আলোকপাত করেন। তারা জানালেন, অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমদ ছিলেন প্রকৃত অর্থেই ‘জনগণের বুদ্ধিজীবী’। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তিনি জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আপসহীন ভূমিকা পালন করে গেছেন। সমাজ পরিবর্তনের জন্য যারা মৌলিক চিন্তা করতেন, তিনি ছিলেন তাদের অন্যতম। জাতীয়তাবাদী ঘরানার রাজনীতির সঙ্গে সখ্য থাকলেও তিনি কখনোই অন্ধ আনুগত্য প্রকাশ করেননি, বরং সত্য প্রকাশে সর্বদা অনড় ছিলেন।
স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বললেন,যারা একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তোলার লড়াই করেছেন, আমরা তাদের ভুলে যেতে পারি না। অধ্যাপক এমাজউদ্দীন ছিলেন তেমনি একজন। তিনি ছিলেন সত্যিকারের ‘উদার গণতন্ত্রের(Liberal Democracy)’ প্রবক্তা। আজ ছয় বছর হলো তিনি আমাদের মাঝে নেই।'
নিজের রাজনৈতিক জীবনের আকাঙ্ক্ষা ও দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে মির্জা ফখরুল আরও বললেন,'আমরা যারা আশির্ধ্ব বয়সে পদার্পণ করেছি, তারা হয়তো পৃথিবীতে আর বেশিদিন নেই। আমরা একটি শান্তিপূর্ণ দেশ দেখতে চেয়েছিলাম, কিন্তু বর্তমানে চারপাশে কেবল অশান্তিই দৃশ্যমান। আমাদের প্রধানমন্ত্রীও আজ সাধারণ মানুষের কাছাকাছি গিয়ে তার পিতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মতো জনগণের কল্যাণে কাজ করার চেষ্টা করছেন।'
অধ্যাপক এমাজউদ্দীনের সরল জীবনযাপনের প্রশংসা করে তিনি জানালেন,এমাজউদ্দীন আহমদ নিজের জন্য কিছুই করেননি।অত্যন্ত সহজ-সরল জীবনযাপন করতেন। তবে তার সমস্ত কাজ ছিল মানুষের মুক্তি ও কল্যাণের জন্য। তার প্রদর্শিত পথ ধরে একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্নই তারা দেখেন। বক্তব্য শেষে তিনি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। স্মরণসভায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বললেন,'কিছু মানুষ উপাচার্য পদের মাধ্যমে নিজের পরিচিতি গড়ে তোলেন। কিন্তু অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ ছিলেন এমন এক ব্যক্তিত্ব, যিনি উপাচার্য হয়ে ঢাবির সুনাম ও মর্যাদা আরও উজ্জ্বল করেছিলেন।তার মতো একজন আদর্শ বুদ্ধিজীবীকে স্মরণ করতে না পারাটা হবে আমাদের ব্যর্থতা। তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশি একটি পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক দর্শনের চর্চা করে গেছেন।'
স্মরণসভায় সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী দীর্ঘ ৫০ বছরের স্মৃতিচারণ করে বলেন, '১৯৭০ সালে তিনি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন, তার আগে থেকেই আমি সেখানে শিক্ষকতা করছিলাম। সেই ১৯৭০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত আমরা একসাথে পথ চলেছি। তার বহুমুখী প্রতিভার মধ্যে প্রধান পরিচয় ছিল—তিনি একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক। শিক্ষকতাই ছিল আমাদের মূল ব্রত। আমরা কখনোই ক্লাস ফাঁকি দিয়ে অন্য কিছু করিনি। তিনি একাধারে একজন আদর্শ শিক্ষক, কৃতি গবেষক এবং অত্যন্ত ভালো মনের মানুষ ছিলেন। শিক্ষার্থীদের তিনি সন্তানের মতো ভালোবাসতেন।'
স্মরণসভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কবি আবদুল হাই শিকদার, জাবির অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম এবং জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। আলোচনা সভা শেষে অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমদের রুহের মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।