

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ডব্লিউএফপি প্রধানের বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট ও বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা ইস্যুতে জোর আলোচনা হবে।
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)-এর ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক কার্ল স্কাউ জানিয়েছেন, বাংলাদেশে অবস্থানরত প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গার জন্য খাদ্য সহায়তা অব্যাহত রাখতে তাদের সংস্থা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট এখনো রোমভিত্তিক জাতিসংঘের এই সংস্থার অন্যতম অগ্রাধিকারে রয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর), ইতালির রোম শহরের একটি হোটেলে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠককালে এসব কথা বলেন তিনি। বৈঠকসংক্রান্ত তথ্য প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়।
বৈঠকে দুই নেতা রোহিঙ্গা পরিস্থিতি ছাড়াও গাজা ও সুদানের দুর্ভিক্ষ, বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা, এবং মানবিক সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়নে ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেন।
কার্ল স্কাউ তার বক্তব্যে বিগত ১৫ মাস ধরে ড. ইউনূসের নেতৃত্বে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সচেতনতা তৈরির প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, এই বিষয়ে পুনরায় আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণে ড. ইউনূসের নিরলস উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
দুই পক্ষই রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তায় দ্রুত তহবিল বৃদ্ধি জরুরি বলে মত দেন। বিশেষ করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাসরত জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সহায়তা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বৈঠকে গত ৩০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের কথা স্মরণ করে স্কাউ বলেন, “এই বৈঠকটি ছিল একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত এ ইস্যুটি আন্তর্জাতিক অগ্রাধিকার তালিকার শীর্ষে রাখা।”
এই আলোচনায় সম্ভাব্য নতুন অর্থায়নের উৎস, বিশেষ করে ধনী রাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকাও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হয়।
কার্ল স্কাউ জানান, নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ওই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য নতুন মানবিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেয়। এর ফলে ডব্লিউএফপি প্রতি রোহিঙ্গা শরণার্থীকে মাসিক ১২ ডলার করে খাদ্য সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখতে পারবে।
ড. ইউনূস বিশ্বব্যাপী ক্ষুধা ও দুর্ভিক্ষ নিরসনে ডব্লিউএফপির কার্যক্রমের প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশের স্কুল ফিডিং কর্মসূচি বাস্তবায়নে সংস্থাটির সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, “এশিয়ার কয়েকটি দেশ স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে চমৎকার অগ্রগতি দেখিয়েছে। আমরাও বাংলাদেশে এই কর্মসূচিকে গুণগতভাবে আরও শক্তিশালী ও সম্প্রসারিত করতে চাই।”
বৈঠকে বৈশ্বিক খাদ্য সংকটের সামগ্রিক চিত্র নিয়েও আলোচনা হয়। স্কাউ জানান, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩০ কোটি মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে। গাজায় ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দিতে শত শত খাদ্যবাহী ট্রাক পাঠাতে ডব্লিউএফপি নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
এই আলোচনায় আরও উপস্থিত ছিলেন খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, এসডিজি সংক্রান্ত মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।
মন্তব্য করুন
