

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আশুলিয়ায় ছয় তরুণকে পুড়িয়ে হত্যা এবং একসঙ্গে সাতজনকে নৃশংসভাবে হত্যা করার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ ১১তম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বুধবার, ১৫ অক্টোবর, বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া পরিচালনা করছে। আজকের কার্যদিবসে দুইজন সাক্ষী তাদের জবানবন্দি দেবেন বলে জানা গেছে।
এর আগে, ৯ অক্টোবর, মামলার দশম দিনে শহীদ ওমর ফারুকের বাবা চান মিয়া ১৪তম সাক্ষী হিসেবে আদালতে সাক্ষ্য দেন। তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন। তার সাক্ষ্যের পর পলাতক আট আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাকে জেরা করেন। এরপর প্রসিকিউশনের আবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন হিসেবে আজকের দিন ধার্য করা হয়।
এদিন প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন সাইমুম রেজা তালুকদার ও আবদুস সোবহান তরফদার।
এর আগে, ৮ অক্টোবর মামলার নবম দিনে এএসআই মনিরুল ইসলাম জব্দ তালিকার সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। ৭ অক্টোবর কনস্টেবল রাশেদুল ইসলাম সাক্ষ্য দেন, যেখানে তিনি ঘটনার দিনের বিস্তারিত তুলে ধরেন। ২৮ সেপ্টেম্বর সপ্তম দিনের শুনানিতে একাত্তর টিভির সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম অনিকের জেরা সম্পন্ন হয়।
২৫ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠ দিনে অনিকসহ আরও একজন সাক্ষী জবানবন্দি দেন। ২৪ সেপ্টেম্বর প্রত্যক্ষদর্শী শফিকুল ইসলামের জেরা শেষে আট নম্বর সাক্ষী সাক্ষ্য দেন।
এর আগের দিন, ২৩ সেপ্টেম্বর শফিকুল এবং অপর প্রত্যক্ষদর্শী মতিবর রহমানের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। ১৮ সেপ্টেম্বর মামলার তৃতীয় দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয়, ১৭ সেপ্টেম্বর সাক্ষ্য দেন আরও দুজন।
প্রথম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ১৫ সেপ্টেম্বর, যেখানে শহীদ আস সাবুরের ভাই রেজওয়ানুল ইসলাম এবং শহীদ সাজ্জাদ হোসেন সজলের বাবা মো. খলিলুর রহমান আদালতে বক্তব্য দেন।
চলতি বিচারিক প্রক্রিয়ার সূচনা হয় ১৪ সেপ্টেম্বর চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের উপস্থাপিত সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে। এতে তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিবরণ তুলে ধরেন।
২১ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল ১৬ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেয়। উপস্থিত আট আসামির মধ্যে সাতজন নিজেদের নির্দোষ দাবি করলেও এসআই শেখ আবজালুল হক অপরাধ স্বীকার করেন এবং রাজসাক্ষী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তার স্বীকারোক্তি আদালতে রেকর্ড করা হয় এবং লিখিত আবেদন অনুযায়ী তাকে রাজসাক্ষী হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
এই মামলায় আটক আসামিরা হলেন: মো. আব্দুল্লাহিল কাফী (সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ঢাকা জেলা - ক্রাইম অ্যান্ড অপস), মো. শাহিদুল ইসলাম (সাবেক অতিরিক্ত সুপার, সাভার সার্কেল),
পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, এসআই আবজাল, কনস্টেবল মুকুল।
তবে সাবেক এমপি সাইফুলসহ মোট আটজন এখনও পলাতক রয়েছেন।
প্রসিকিউশন গত ২ জুলাই আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করে। এতে ৩১৩ পৃষ্ঠার অভিযোগ, ৬২ জন সাক্ষীর তালিকা, ১৬৮ পৃষ্ঠা দালিলিক প্রমাণ এবং দুটি পেনড্রাইভ যুক্ত করা হয়। ট্রাইব্যুনাল এসব তথ্য আমলে নিয়ে ১৬ জনের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করে।
মামলার কেন্দ্রে রয়েছে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সংঘটিত একটি মর্মান্তিক ঘটনা, যেখানে আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান ছয় তরুণ। পরবর্তীতে পুলিশ ভ্যানে তাদের মরদেহ তুলে আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় এক যুবক জীবিত ছিলেন, তাকেও নির্মমভাবে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়।
এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১১ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়।
মন্তব্য করুন
