

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


গত ১৩ মে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আলম সাম্য। রাজধানী ঢাকাসহ এই হত্যার বিচারের দাবি উঠে দেশব্যাপী। সড়ক অবরোধ, থানা ঘেরাওসহ বিভিন্নভাবে আন্দোলন করেন সাধারণ শিক্ষার্থী, ছাত্রদলসহ একাধিক সংগঠন।
১৪ মে শাহবাগ থানায় নিহত সাম্যের ভাই শরিফুল ইসলামের করা মামলায় ঢাকা, এরপরে কক্সবাজার এবং মুন্সীগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার হয় ১১ জন।
বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শিক্ষার্থী খুনের ঘটনায় নড়েচড়ে বসে ঢাবি প্রশাসন। সেসময় তদন্ত কমিটি গঠন করে ৬ জনকে বহিষ্কারের কথা জানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। হত্যাকাণ্ডের চার দিনের মাথায় ১৭ মে বৈঠকে বসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা মহানগর পুলিশ-ডিএমপি।
বৈঠক পরবর্তী যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার বলেছিলেন, সাম্য হত্যাকাণ্ডের তদন্ত দ্রুত শেষ করে আদালতে চার্জশিট দেয়া হবে। বিশেষ ট্রাইব্যুনালে এ মামলার বিচার দ্রুত শেষ হবে- এমন আশাও প্রকাশ করেছিলেন তিনি।
আর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে কাজ করছে বলেছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান।
তবে ৫ মাস পেরিয়ে গেলেও এই আলোচিত হত্যাকাণ্ডের মামলার চার্জশিট এখনও দাখিল করতে পারেনি পুলিশ। প্রথমে শাহবাগ থানা পুলিশ এই মামলার তদন্ত শুরু করলেও পরবর্তীতে সেই দায়িত্ব দেয়া হয় গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) রমনা বিভাগের কাছে। গ্রেফতার হওয়া আসামিদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে।
মামলা তদন্তের সবশেষ তথ্য জানতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের রমনা বিভাগের পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) আক্তার মাসুদ বলেন, সাম্য হত্যা মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। আসামিদের নাম-ঠিকানার তথ্য এখনও যাচাই করা শেষ হয়নি। বিভিন্ন থানায় এদের (আসামি) বাড়ি, সেসব থানা থেকে রিপোর্ট পাইনি। রিপোর্ট সংগ্রহ করা হবে। আগামী মাসেই চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হবে।
প্রতিবেদনে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানের মন্তব্য যুক্ত করতে একাধিকবার চেষ্টা করেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি এনপিবি। এরপর কয়েকবার কল করে প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়।
তিনি বলেন, প্রতিটি শুনানিতে আদালতে ঢাবির প্রতিনিধি উপস্থিত হচ্ছে। কিন্তু অভিযোগপত্র দাখিলের ক্ষেত্রে ফরেনসিক রিপোর্ট না পাওয়ার কথা হচ্ছে। ঘটনার ৫ মাস পার হওয়ার পরও অভিযোগপত্র দাখিল না হওয়ায় আশাহত হওয়ার কথাও জানান প্রক্টর।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন বলেন, দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের কথা থাকলেও, দুঃখজনকভাবে সাম্য হত্যাকাণ্ডের শুরু থেকেই দায়সারা কার্যক্রম পরিচালনা করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
তিনি আরও বলেন, সাম্য শুধুমাত্র ছাত্রদল নেতা নয়, ঢাবি শিক্ষার্থীও বটে; সেই হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তেমন দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেনি। ছাত্রদল ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে সবসময়ই সোচ্চার।
শিপন বলেন, পুলিশের সঙ্গেও আমরা যোগাযোগ রাখছি। সবকিছুর পরও কেনো জানি ধোঁয়াশা দূর হচ্ছে না। জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে এমন হওয়াটা সত্যিই কষ্টকর।
সাম্য হত্যাকাণ্ডের সার্বিক বিচারিক কার্যক্রম জানতে চাইলে মামলার বাদী ও নিহতের ভাই শরিফুল ইসলাম বলেন, আমরা পারিবারিকভাবে মামলা করেছি, কিন্তু পুলিশের কাছ থেকে তেমন রেসপন্স পাইনি। তিনি আরও বলেন, আসামিদের গ্রেফতারের পর সংবাদ সম্মেলনের কথাও জানানো হয়নি। মিডিয়ার মাধ্যমে জেনেছি। এছাড়া জানার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশের এজাহারের কিছু বিষয়ে নারাজি (আপত্তি জানানো) দিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আচরণ নিয়েও অভিযোগ করেন তিনি।
মন্তব্য করুন