

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের উদ্যোগে প্রণীত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর চূড়ান্ত অনুলিপি আজ মঙ্গলবার দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে হস্তান্তর করা হবে।
তবে এতে প্রস্তাবিত সংস্কার বাস্তবায়নের পদ্ধতি সম্পর্কে কোনো সুপারিশ রাখা হয়নি। এ বিষয়ে পরবর্তীতে পৃথকভাবে অন্তর্বর্তী সরকার ও সংশ্লিষ্ট দলগুলোর কাছে প্রস্তাবনা তুলে ধরবে কমিশন।
আগামী ১৭ অক্টোবর, শুক্রবার, জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই ঐতিহাসিক সনদে স্বাক্ষর করবে ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোট।
কমিশন জানিয়েছে, প্রধান উপদেষ্টার উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানে সব দলের মনোনীত প্রতিনিধি সনদে স্বাক্ষর করবেন। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার জানিয়েছেন, সব দল এরই মধ্যে প্রতিনিধির নাম চূড়ান্ত করেছে।
জুলাই সনদের গঠনতত্ত্ব অনুযায়ী, এটি তিনটি মূল অংশে বিভক্ত থাকবে:
ভূমিকা ও প্রেক্ষাপট: যেখানে উল্লেখ থাকবে সংস্কার উদ্যোগের ইতিহাস ও প্রয়োজনীয়তা।
সংস্কার প্রস্তাবের তালিকা: মোট ৮৪টি প্রস্তাব রয়েছে, যেগুলোতে দলগুলো একমত হয়েছে।
অঙ্গীকারনামা: দলগুলোর স্বাক্ষরের জন্য তৈরি এই অংশে ৩০টি পৃথক কপি রাখা হবে।
আয়োজনে থাকছে প্রযুক্তি ও সংস্কৃতির সংমিশ্রণ
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে কমিশন। ইতোমধ্যে দক্ষিণ প্লাজায় মঞ্চ নির্মাণ শুরু হয়েছে। প্রায় তিন হাজার অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে।
অনুষ্ঠান দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম পর্বে মাগরিবের নামাজের আগে স্বাক্ষর পর্ব শেষ করা হবে।
দ্বিতীয় পর্বে: থাকবে একটি ভিডিওচিত্র, যাতে প্রজেকশন ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে সনদ তৈরির পটভূমি তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের ভাবনা রয়েছে, যার বিষয়ে সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী জানিয়েছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর নেওয়া হবে।
কমিশন সূত্র জানিয়েছে, ১১ সেপ্টেম্বর একটি খসড়া ভাষ্য দলগুলোর কাছে পাঠানো হয়েছিল। যদিও তখন বলা হয়েছিল, সেটিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে, পরে কিছু ভাষাগত ও বাক্য গঠন সংশোধন করা হয়েছে। তবে আর কোনো দলের মতামত নেওয়া হবে না।
একটি বিতর্কিত বিষয় ছিল সংবিধানের ৪(ক) অনুচ্ছেদ—যেখানে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বেশিরভাগ দল এই বিধান বিলুপ্তির পক্ষে মত দিলেও তা সনদে রাখা হয়নি।
কমিশনের যুক্তি, যেহেতু এটি একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান, ভবিষ্যৎ সংসদ চাইলে এই বিধান সংশোধন করতে পারবে। তাই এখন সনদে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজন নেই।
ঐকমত্য কমিশন দুই ধাপে দেশব্যাপী সংলাপ আয়োজন করে। সেখানে গৃহীত ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের ওপর রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা তৈরি হয়। মূলত এই প্রস্তাবগুলো নিয়েই গঠিত হয়েছে ‘জুলাই সনদ’।
এর আগে জুলাই মাসেই এই সনদে স্বাক্ষর হওয়ার কথা ছিল। তবে বাস্তবায়নের রূপরেখা নিয়ে মতানৈক্যের কারণে তা বিলম্বিত হয়। পরে কমিশন দলগুলোর সঙ্গে ফর্মাল ও ইনফর্মাল আলোচনা করে।
এ সময় গণভোটের মাধ্যমে সনদ বাস্তবায়নের ব্যাপারে দলগুলোর মধ্যে সম্মতি তৈরি হলেও, সেই ভোটের পদ্ধতি, সময় ও কাঠামো নিয়ে এখনো ভিন্নমত রয়েছে। তাই কমিশন বিশেষজ্ঞ ও দলগুলোর মত একত্র করে একটি সমন্বিত সুপারিশমালা তৈরি করে সরকারের কাছে জমা দেবে।
মন্তব্য করুন
