শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উদ্যোক্তাদের জন্য সামাজিক ব্যবসা তহবিল গঠনের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০২৫, ০৯:৩০ এএম আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২৫, ০৯:৩১ এএম
ইফাদের প্রেসিডেন্ট আলভারো লারিওর সঙ্গে বৈঠকে ড. মুহাম্মদ ইউনূস
expand
ইফাদের প্রেসিডেন্ট আলভারো লারিওর সঙ্গে বৈঠকে ড. মুহাম্মদ ইউনূস

বাংলাদেশের তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা, নারী কৃষক এবং খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পে যুক্ত কর্মীদের সহায়তায় একটি ‘সোশ্যাল বিজনেস ফান্ড’ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

তিনি এই প্রস্তাব দেন ইতালির রাজধানী রোমে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ফুড ফোরাম-এর পার্শ্ব বৈঠকে, যেখানে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলের (আইএফএডি) প্রেসিডেন্ট আলভারো লারিও।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে সোমবার (১৩ অক্টোবর) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বৈঠকে দুই নেতা বাংলাদেশের গভীর সমুদ্র মৎস্য আহরণ, আম ও কাঁঠালের রপ্তানি বৃদ্ধি, জলবায়ু সহনশীল কৃষি উদ্যোগ সম্প্রসারণ, এবং মহিষের দুধভিত্তিক দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনে সহায়তা– এসব কৌশলগত বিষয়ে আলোচনা করেন।

অধ্যাপক ইউনূস আইএফএডির প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান এবং সামাজিক ব্যবসা, কৃষি উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি খাতে যৌথ উদ্যোগে কাজ করার প্রস্তাব দেন। তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সোশ্যাল বিজনেস ফান্ড তৈরি হলে কৃষি খাত আরও গতিশীল হবে এবং টেকসই খাদ্যব্যবস্থা গড়ে উঠবে।”

জবাবে আইএফএডি প্রেসিডেন্ট আলভারো লারিও বলেন, “বাংলাদেশের সামাজিক ব্যবসা মডেল আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত। আইএফএডি এই উদ্যোগগুলোকে সমর্থন দিতে এবং বেসরকারি খাতের সঙ্গে অংশীদারিত্ব জোরদার করতে প্রস্তুত।”

তিনি জানান, আইএফএডি বর্তমানে বাংলাদেশে ছয়টিরও বেশি কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়ন করছে এবং ভবিষ্যতে আরও বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজছে।

বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূস দেশের ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ, কোল্ড স্টোরেজ, গুদাম সুবিধা ও রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, “আমরা ইতিমধ্যে বিদেশে আম রপ্তানি শুরু করেছি, কিন্তু পরিমাণ এখনো সীমিত। চীন বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ আম ও কাঁঠাল আমদানির আগ্রহ দেখিয়েছে, তাই উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে আরও বিনিয়োগ দরকার।”

বৈঠকে উপস্থিত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার জানান, কীভাবে বাংলাদেশি নারী দুগ্ধ খামারিরা মহিষের দুধ থেকে মোজারেলা চিজ তৈরি করছেন। তিনি দেশে পনির ও অন্যান্য দুগ্ধজাত পণ্যের উৎপাদন বাড়াতে ইফাদের সহায়তা কামনা করেন।

বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণের অব্যবহৃত সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অভাবে বেশিরভাগ বাংলাদেশি জেলে কেবল অগভীর পানিতেই মাছ ধরেন।

তিনি বলেন, “আমরা এখনো গভীর সমুদ্র মৎস্য আহরণে যেতে সাহস পাই না। আইএফএডি অর্থায়ন ও প্রযুক্তি সহায়তার মাধ্যমে এই খাতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।”

বৈঠকে খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার, এসডিজি সমন্বয়কারী ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোর্শেদ এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং আইএফএডির সহযোগী সহ-সভাপতি ডোনাল ব্রাউন উপস্থিত ছিলেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন