

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠপর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
১২ অক্টোবর, রবিবার আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটির এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বৈঠকে মূলত নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
নির্বাচনকালীন সময়ে কোনো বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতা রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে এবং যেকোনো অপতৎপরতা আইনগতভাবে দমন করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
বৈঠকে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ওসিদের নিরপেক্ষভাবে কাজ করার জন্য স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কেউ যাতে কোনো ধরনের বেআইনি কাজে জড়াতে না পারে, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে নজরদারি জোরদারে সিসিটিভি স্থাপন ও কার্যকর মনিটরিংয়ের সুপারিশ এসেছে।
এবারের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জন্য বডি ওয়ার্ন ক্যামেরা সরবরাহের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়েছে, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে যেসব কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করেছিলেন, তাদের মধ্যে অনেকে যেন এবার দায়িত্বে না থাকেন—এমন পরামর্শ দেওয়া হবে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে টহল জোরদার এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং এই প্রশিক্ষণ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও জানান, প্রায় দেড় লাখ পুলিশ সদস্যকে তিন দিনব্যাপী বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যা ১৩০টি স্থানে ২৮টি ব্যাচে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এরই মধ্যে প্রথম ব্যাচের ৬ হাজার ৫০০ সদস্যের প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে, দ্বিতীয় ব্যাচের প্রশিক্ষণ চলছে এবং চূড়ান্ত ধাপের প্রশিক্ষণ ৫ অক্টোবর শুরু হয়ে ২০২৬ সালের ১৫ জানুয়ারির মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের জন্যও একটি প্রাক-নির্বাচনী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। ৪৫ হাজার ভোটকেন্দ্রের প্রতিটিতে ১৩ জন করে মোট প্রায় ৫ লাখ ৮৫ হাজার সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে—এর মধ্যে ১ লাখ ৩৫ হাজার সদস্যকে অস্ত্রসহ এবং ৪ লাখ ৫০ হাজারকে নিরস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
জাতীয় নির্বাচনে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবেন আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যরা। এর জন্য ৩ হাজার ১৫৭ জন নতুন সদস্যের প্রশিক্ষণ চলছে বলেও জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এবারের নির্বাচনে বিজিবির ১ হাজার ১০০ প্লাটুনের ৩৩ হাজার সদস্য দায়িত্বে থাকবেন। তাদের ৬০ শতাংশ ইতোমধ্যে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন এবং ডিসেম্বরের মধ্যে সবাই তা শেষ করবেন।
এছাড়া প্রায় ৮০ হাজার সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য নির্বাচনে বিভিন্ন দায়িত্বে থাকবেন বলে জানানো হয়।
সভায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সীমানা পুনর্নির্ধারণকে কেন্দ্র করে যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে, সেজন্যও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
বৈঠকে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
মন্তব্য করুন
