

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দৃকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও আলোকচিত্রী শহিদুল আলম ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে বন্দী থাকার সময়ের তিক্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন।
শনিবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর দৃক পাঠ ভবনে একটি সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজের ওপর ঘটে যাওয়া নির্যাতনের কথাগুলো ব্যক্ত করেন। ভোরে মুক্ত হয়ে তিনি দেশে ফেরেন এবং তারপরই সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
শহিদুল আলম বলেন, আমাদের ওপর প্রধানত মানসিক অত্যাচার চালানো হয়েছে। জেলভিত্তে আতঙ্ক সৃষ্টি করার নানা কৌশল শানানো হয়েছে। কাউকে হামাস সমর্থক দাবিই করে অন্য এক বন্দিকে গুলি করে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।
তিনি আরো জানান, জাহাজ থেকে নামিয়ে আটক করার পর বিভিন্ন রকম নির্যাতন করা হয়েছিল, যেখানে মানসিক নির্যাতনের মাত্রাই বেশি ছিল।
আটক অবস্থায় তাদের হাত পেছন থেকে বেঁধে হাঁটুমুড়ে বসিয়ে রাখা হয়েছিল; সে জায়গায় আগেই ইসরায়েলি বাহিনী মূত্রত্যাগ করে রেখেছিল বলে তিনি জানান। তাঁর বাংলাদেশি পাসপোর্ট ইসরায়েলি নিরাপত্তাকর্মীরা ফেলে দিলে, তিনি তা তুলে নিতেই বারবার শারীরিকভাবে আক্রমণ করা হয়েছে।
পাশাপাশি, নিজের সহযাত্রীদের এক পর্যায়ে মেশিনগানের ব্যারেল দিয়ে আঘাত করা হয়েছে—অন্য একজনকে হামাসের সমর্থক দাবি করে গুলি করে মারার হুমকিও দেখানো হয়েছিল বলে তিনি জানান।
শহিদুল জানান, তাদেরকে মরুভূমির একটি গভীর ও অত্যন্ত গোপনীয় কক্ষে রাখা হয়েছিল; সেখানে অন্য একজন বন্দী জানায়, তাকে ‘তুমি হামাস এজেন্ট’ বলে ভেতরে নিয়ে গিয়ে গুলি করে ফেলবে বলে বলা হয়েছিল।
বন্দিদের মধ্যে অনশন চলেছিল; অধিকাংশেই খাওয়া ছাড়েন, কেবল শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে কয়েকজনই খেয়েছিলেন। আড়াই দিনের মধ্যে তাদেরকে মাত্র একবার একটি প্লেট খাবার দেওয়া হয়। যেখানে শুয়ে থাকতে বলা হয়েছিল তা লোহার ছিল এবং শৌচাগারের অবস্থা অমানবিক ছিল।
তিনি আরও বলেন, রাতের বেলায় হঠাৎই ইসরায়েলি বাহিনী মেশিনগান নিয়েই সেলের মধ্যে ঢুকে পড়ত; জোরে চিৎকার করত, দাঁড়ানোর নির্দেশ দিত এবং লজ্জাজনক আচরণ করে আতঙ্ক সৃষ্টি করার চেষ্টা করত।
সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক ভবিষ্যৎ কর্মসূচি জানতে চাইলে শহিদুল আলম জানান, তারা আন্তর্জাতিকভাবে একটি সক্রিয় নেটওয়ার্ক গঠনের পরিকল্পনা নিয়েছেন। গ্লোবাল লিডারদের কার্যক্রমে ভরসা না করে সক্রিয় ভিত্তিতে কী করা যায়, তা নিয়ে অ্যাকটিভিস্টরা প্রস্তুতি নিচ্ছে।
একটি ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করা আছে এবং ফিরে যাওয়ার আগেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে—আবার আমরা যাই এবং হাজারটি জাহাজ যাবে — এ ধরনের কর্মসূচির কথা তিনি জানিয়েছেন।
দৃকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে শহিদুল আলম বলেন, জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের সময় আমরা ঘর থেকে নামে আন্দোলন করে একটি স্বৈরশাসককে সরিয়েছিলাম। একইভাবে আন্তর্জাতিকভাবে সক্রিয়তা প্রয়োজন।
মন্তব্য করুন
