

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো জাতীয় পর্যায়ে টাইফয়েড প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই)-এর আওতায় ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী প্রায় ৫ কোটি শিশুকে এক ডোজ টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (টিসিভি) দেওয়া হবে।
রোববার (১২ অক্টোবর) থেকে একযোগে সারা দেশে এই বিনামূল্যের টিকা প্রদান শুরু হয়েছে, যা চলবে আগামী ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, টিসিভি টিকা ৯৫ শতাংশেরও বেশি কার্যকর এবং ৩ থেকে ৭ বছর পর্যন্ত সুরক্ষা দিতে সক্ষম। গ্যাভি ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্সের সহযোগিতায় বাংলাদেশে এই টিকা সরবরাহ করা হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, টাইফয়েডে আক্রান্ত হলে দীর্ঘস্থায়ী জ্বর, দুর্বলতা ও হজমজনিত জটিলতা দেখা দিতে পারে। সময়মতো টিকা গ্রহণ করলে এ ধরনের জটিলতা ও অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব।
অভিভাবকরা সন্তানের জন্মনিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে https://vaxepi.gov.bd/registration/tcv ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইনে নিবন্ধন করতে পারবেন। নিবন্ধন শেষে জন্মনিবন্ধন সনদের মাধ্যমে ভ্যাকসিন কার্ড ডাউনলোড করা যাবে। যেসব শিশুর জন্মনিবন্ধন নেই, তারা স্থানীয় টিকাকেন্দ্রে সরাসরি গিয়ে নিবন্ধনের সুযোগ পাবেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ৪ কোটি ৯০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে ১ কোটি ৭০ লাখেরও বেশি শিশুর নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে।
কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, টিকা সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং এর কোনো গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, টাইফয়েড হলো স্যালমোনেলা টাইফি ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট এক সংক্রামক রোগ, যা মূলত দূষিত পানি ও খাদ্যের মাধ্যমে ছড়ায়।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়, যাদের বড় অংশই শিশু।
মন্তব্য করুন
