

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, ‘ইন্সপেক্টরকে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেব, আপনারা নিজে পিটাইয়া মারবেন’।
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার এমন বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ)।
শনিবার (২০ জুন) এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১৭ জুন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) স্থানীয় লবণচরা থানা এলাকায় আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে জণগণের কাছ থেকে ক্রিমিনালদের বিষয়ে তথ্য চাওয়ার গোপনীয়তা রক্ষার প্রতিশ্রুতিতে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) জনাব মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান এক পর্যায়ে বলেন, ‘কোন ইনফরমেশন ইন্সপেক্টরকে বলার পর যদি ফাঁস হয়, তবে মুসলমান হিসেবে কথা দিচ্ছি, আমি নিজে ওই ইন্সপেক্টরকে এই গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেব, আপনারা নিজে পিটাইয়া মারবেন।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন মনে করে, পুলিশ বাহিনীর সব সদস্য ও কর্মকর্তার বক্তব্যে সর্বদা পেশাদারিত্ব, সংযম এবং প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যবোধের প্রতিফলন থাকা বাঞ্ছনীয়। জনসম্মুখে প্রদত্ত যেকোনো বক্তব্য এমন হওয়া উচিত, যা বাহিনীর মর্যাদা, শৃঙ্খলা ও জনগণের আস্থাকে আরও সুদৃঢ় করে।
সংগঠনটির বলছে, বিগত সময়ের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বাংলাদেশ পুলিশ পেশাদারিত্ব, ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে জনসেবা প্রদানের মাধ্যমে জনগণের আস্থা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এ প্রেক্ষাপটে বাহিনীর সদস্যদের মনোবল, পেশাগত নিরাপত্তা ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে আমরা মনে করি।
পুলিশ কর্মকর্তার ওই বক্তব্য সামাজিকমাধ্যমে ভাইরাল প্রসঙ্গে বিবৃতে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত উক্ত বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যদের মধ্যে নানামুখী প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হয়েছে। অনেক সদস্য বিষয়টিকে সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচনা করে তাদের উদ্বেগ ও মতামত প্রকাশ করেছেন।
বিপিএ বলছে, বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ, অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলার বিষয় থাকলে তা প্রচলিত আইন, বিভাগীয় বিধি-বিধান ও সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। এ ধরনের বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়াই সর্বোত্তম ও গ্রহণযোগ্য পন্থা।
ভবিষ্যতে সব পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যগণ বক্তব্য প্রদানকালে আরও সতর্কতা, সংযম ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয়ারও তাগিদ রয়েছে বিবৃতিতে। আহ্বান জানানো হয়, বাহিনীর সর্বস্তরের সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান, পেশাদারিত্ব ও ইতিবাচক কর্মপরিবেশ বজায় রাখার।
