

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


গণমাধ্যম অর্থাৎ যে মাধ্যম গণমানুষের। এই কথাটার শতভাগ বাস্তব চিত্রায়ণ বাংলাদেশে তো বটেই বিশ্ব-সমাজেও বিরল।
যেমন- উইঘুর মুসলিমের দুঃখের কথা নেই চীনা গণমাধ্যমে, দখলদার ইসরায়েলের কর্তৃত্ববাদী মানসিকতা এড়িয়ে যায় পশ্চিমের বহু গণমাধ্যম; শুধুমাত্র দুটো বিষয় উল্লেখ করলেও এমন অসংখ্য ঘটনা রয়েছে যেখানে সত্য ও নৈতিকতার প্রশ্নে নিশ্চুপ গণমাধ্যম বা সংবাদমাধ্যমগুলো।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে বাংলাদেশকেও। বিশেষ করে সবশেষ শেখ হাসিনার আমলে যা ছিলো উদ্বেগজনক।
২০০৯ সরকার গঠনের পর থেকে ক্রমান্বয়ে আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃত্ববাদী সরকারে পরিণত হয়েছে, স্বভাবতই সকল খাত নিজস্ব বৈশিষ্ট্য হারিয়ে হুকুমের গোলামী করেছে।
দুঃখজনক হলেও যার মধ্যে ছিলো গণমাধ্যম এবং এই ব্যবস্থায় জড়িত বড় একটা অংশ। তৎকালীন সরকার ও সরকার দলীয় কর্তাব্যক্তিদের অর্থ পাচার-দুর্নীতি, খুন-গুম, দমন-পীড়নসহ নানা অপকর্মের পূর্ণাঙ্গ তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশে ছিলো অদৃশ্য নিষেধাজ্ঞা।
আর কেউ এ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার চেষ্টা অর্থাৎ জনগণের সঙ্গে প্রতারণার সংবাদ প্রচার করতে চাইলেই তৈরি হতো সমস্যা।
হুমকিধামকি, চাকরি চলে যাওয়া তো বটেই গণমাধ্যম বন্ধ করা বা জীবননাশের কথাও বলা হতো ঊর্ধ্বতন মহল থেকে। শুধু কথাই না, একাধিক গণমাধ্যমের সম্প্রচার বন্ধ ও গণমাধ্যমকর্মী প্রাণও হারিয়েছে সেই আমলে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যম পতন হয় আওয়ামী লীগ সরকার।
ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখে সাধারণ মানুষ। জনআকাঙ্খার মাধ্যমে গঠিত হয় নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
এই সরকারের আমলে গুরুত্ব পাচ্ছে বিগত সরকারের অন্যায়ের বিচার, রাষ্ট্র সংস্কার এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। উপদেষ্টা পরিষদের এই শাসনামলে বেশ কয়েকটি সংস্কার কমিশন গঠিত হয়েছে, যার মধ্যে ‘গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন’ও রয়েছে।
আলোচনা-পর্যালোচনা, পরামর্শ, সমস্যা, সমাধানের উপায়সহ নানান বিষয়ে গণমাধ্যম এবং এই সেক্টরের সংশ্লিষ্ট সকল কিছু কমিশন বুঝার চেষ্টা করেছে।
ইতিমধ্যে গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের সুরক্ষায় একাধিক সুপারিশসহ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন। এখন দেখার বিষয় সেই প্রতিবেদন কতটুকু বাস্তবায়ন করতে পারে সরকার। যা সময়ের পরিক্রমায় জানবে এ দেশের গণমানুষ।
এবার নিজেদের কথা বলি। নিজেদের বলতে গণমাধ্যমে ভেতরের কথা। অনেক গণমাধ্যম ও সাংবাদিকরা ক্ষমতাবানদের স্তুতি গাইতে থাকেন আখের গুছানোর জন্য। বিগত সরকারের আমলে যা ছিলো এক রকমের অসুস্থ প্রতিযোগিতা।
এজন্যই শেখ হাসিনার কর্তৃত্ববাদী ও জুলুমকারী শাসক হয়ে উঠায় দায় গণমাধ্যম এড়াতে পারে না। চাটুকারিতা আর সরকারি বন্দনাবাক্য থাকতো অনেক সাংবাদিকদের কন্ঠে।
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের এমন আচরণ পুনরায় শুরু হলে তা হবে অতীতের চেয়ে আরও ভয়াবহ। নতুন এই বাংলাদেশে আর কখনো যাতে স্বৈরাচারী সরকার খুঁটি বসিয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করতে না পারে সেজন্য গণমাধ্যমের সত্য ও নৈতিক অবস্থানের বিকল্প নেই।
নগর থেকে গ্রাম, পথপ্রান্ত, অজপাড়া গাঁয়ের মেঠো পথের প্রকৃত কথাটাও যেনো উঠে আসে এই মাধ্যমে। কালো মেঘের ঘনঘটায় যেনো আর হারিয়ে না যায় গণমাধ্যমের বৈশিষ্ট্য।
এজন্য সকল সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের সত্য ও নৈতিকতার পথে হেঁটে যেতে হবে গণমানুষের মনে।
গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে আজ শনিবার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করলো নতুন প্রজন্মের ডিজিটাল মিডিয়া- নিউজ পেইজ বিডি। যা সংক্ষেপে পরিচিতি পাচ্ছে এনপিবি নামে।
সত্য, সরাসরি, সবার আগে এই স্লোগান নিয়ে যাত্রা শুরু করা এনপিবি জনসাধারণের মনন-মস্তিষ্ককে ধারণ ও বাস্তবতার নিরিখে সকল জটিলতা কাটিয়ে সত্য ফুটিয়ে তুলবে এমনটাই প্রত্যাশা আমদের সকলের। এনপিবি পরিবারের জন্য রইলো শুভ কামনা।
মন্তব্য করুন