

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলামের মেয়ে বুশরা আফরিনের বিরুদ্ধে রাজধানীর গুলশানে সিসা লাউঞ্জ পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে।
বুশরা ডিএনসিসির চিফ হিট অফিসার (Chief Heat Officer) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং তিনি ছিলেন এশিয়ার প্রথম নারী চিফ হিট অফিসার।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গুলশানের কোর্ট ইয়ার্ড বাজার এলাকায় অবস্থিত ‘দ্য কোর্ট ইয়ার্ড বাজার সিসা লাউঞ্জ’-এ পুলিশের বিশেষ অভিযান পরিচালনার পর এ অভিযোগ সামনে আসে। গত ১৯ আগস্ট দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটের দিকে গুলশান থানার পুলিশ ওই স্থানে অভিযান চালায়।
অভিযানের সময় পুলিশ বিপুল পরিমাণ সিসা, হুক্কা, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নেশাদ্রব্য এবং নগদ অর্থ উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে আটক করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন গুলশান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাফিজুর রহমান।
তিনি জানান, লাউঞ্জের মালিককে পাওয়া যায়নি, তবে ব্যবসা পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি জব্দ করা হয়েছে। স্থানটি মূলত ক্যাটারিং ব্যবসার জন্য ভাড়া নেওয়া হলেও পরবর্তীতে অনুমোদন ছাড়াই রেস্টুরেন্ট ও সিসা বার হিসেবে পরিচালিত হচ্ছিল।
এ ঘটনায় বুশরার স্বামী জাওয়াদ, লাউঞ্জ পরিচালক আফরোজা বিনতে এনায়েতসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এদের অনেকেই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সিসা লাউঞ্জটির সঙ্গে যুক্ত।
শুধু কোর্ট ইয়ার্ড বাজারই নয়, গুলশান ও বনানীর বিভিন্ন অভিজাত এলাকায়ও বেশ কিছু সিসা বার অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পূর্বে বন্ধ হয়ে যাওয়া ‘মন্টানা লাউঞ্জ’, ‘সেলসিয়াস’, এবং ‘এক্সোটিক’ নামের কয়েকটি বারের পুনরায় খোলার জন্য প্রভাবশালী ব্যক্তিরা তদবির করছেন বলে জানা গেছে।
নারকোটিক্স বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করার পরও রাজনৈতিক প্রভাব ও তদবিরের কারণে সেগুলো ফের চালু করার চেষ্টা চলছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী গোষ্ঠী বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার নাম ভাঙিয়ে কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন।
বিএনপি নেতাদের নাম ব্যবহার করে তদবিরের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী শরিফ আল জাওয়াদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি এবং বার্তায়ও সাড়া দেননি। একইভাবে, ‘সেলসিয়াস’ সিসা বারের মালিক হিসেবে পরিচিত আসিফ মোহাম্মদ নূরের ফোনেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
সূত্রমতে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজধানীর এই এলাকাগুলোতে কয়েকটি সিসা বার মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও মেয়রদের ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠে। এর মধ্যে গুলশানের কোর্ট ইয়ার্ড বাজারের সিসা বারটি বুশরা আফরিনের, বনানীর ‘আল গিসিনো’ মন্ত্রীর পুত্র রনি চৌধুরীর, আর ‘ফারেন হাইট’ নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান শেখ পরিবারের এক সদস্যের নামে পরিচালিত হতো।
তবে সরকার পরিবর্তনের পর এসব প্রতিষ্ঠান হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যায় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা গা ঢাকা দেন বলে জানা গেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, সিসা বারের ব্যবসায় এখন একটি অবৈধ সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে—যেখানে কিছু অসাধু আইনজীবী, আমলা এবং সাংবাদিকও যুক্ত। তাই অভিযান ও কড়াকড়ি থাকা সত্ত্বেও এসব অবৈধ ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে নতুন নামে পুরনো সিসা বারগুলো আবার কার্যক্রম শুরু করছে বলেও জানা গেছে। ফলে, এই ব্যবসা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা যাবে কি না—তা নিয়ে প্রশাসনের ভেতরেই সন্দেহ দেখা দিয়েছে।
মন্তব্য করুন
