

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিশ্বকাপ শুরুর আগে ব্রাজিলকে নিয়ে প্রত্যাশা থাকলেও শিরোপার প্রধান দাবিদারদের তালিকায় দলটি কিছুটা পিছিয়েই রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ দলের সঙ্গে পৌঁছে ব্রাজিলের অভিজ্ঞ ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার কাসেমিরোও স্বীকার করেছেন, এবারের আসরে তারা সবচেয়ে বড় ফেবারিট নয়।
কাসেমিরো বলেন, “আমরা তুমুল ফেবারিট দল নই।” তার এই মন্তব্যই বর্তমান ব্রাজিল দলকে ঘিরে বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।
ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি ঘোষিত বিশ্বকাপ স্কোয়াডের আর্থিক মূল্যায়নেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। খেলোয়াড়দের বাজারমূল্য নিয়ে ‘ট্রান্সফাররুম’-এর এক গবেষণায় দেখা যায়, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে ব্রাজিলের স্কোয়াড মূল্যমানের দিক থেকে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে।
ক্লাব, খেলোয়াড় এবং এজেন্টদের মধ্যে দলবদল সংক্রান্ত যোগাযোগ ও লেনদেন সহজ করতে প্রায় এক দশক আগে ‘ট্রান্সফাররুম’ প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মটি চালু করা হয়। বর্তমানে খেলোয়াড়দের বাজারমূল্য নির্ধারণেও প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে থাকে।
গবেষণায় খেলোয়াড়দের বয়স, সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, সম্ভাব্য পুনর্বিক্রয় মূল্য, ভবিষ্যৎ উন্নয়নের সুযোগ, চুক্তির অবশিষ্ট মেয়াদ এবং সংশ্লিষ্ট লিগের প্রতিযোগিতামূলক মানসহ একাধিক সূচক বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
এসব হিসাব-নিকাশে শীর্ষে রয়েছে ফ্রান্স ফুটবল দল। কিলিয়ান এমবাপ্পে, মাইকেল ওলিসে, উসমান দেম্বেলে এবং আরও অনেক তারকার কারণে ফ্রান্সের স্কোয়াড দামে সবার ওপরে। তাদের বাজারমূল্য ১৪৬ কোটি ইউরো বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২০ হাজার ৮৬৭ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।
এরপরের অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে স্পেন, ইংল্যান্ড, জার্মানি ও পর্তুগাল। এই পাঁচটি দেশকে ইউরো মুদ্রার হিসেবে ‘বিলিয়নিয়ার ক্লাব’ হিসেবে ধরা হচ্ছে, কারণ তাদের স্কোয়াডের মোট বাজারমূল্য অত্যন্ত বেশি। এরপর ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে ব্রাজিল।
ভিনিসিয়ুস ও রাফিনিয়ার মতো ইউরোপে প্রতিষ্ঠিত খেলোয়াড়, এনদ্রিক ও রায়ানের মতো প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ এবং নেইমার, দানিলো ও অ্যালেক্স সান্দ্রোর মতো অভিজ্ঞ ফুটবলারদের সমন্বয়ে ব্রাজিল দলে শক্তিশালী ভারসাম্য তৈরি হয়েছে।
ফলে ব্রাজিল জাতীয় দলে ডাক পাওয়া ২৬ জন খেলোয়াড়ের মোট বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ৯৪ কোটি ১০ লাখ ইউরো বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১০ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা।
দুই বছর আগে ফিফার বর্ষসেরা হওয়া ভিনিসিয়ুস জুনিয়র বর্তমানে ব্রাজিলের সবচেয়ে মূল্যবান ফুটবলার। তবে এই সমীক্ষায় বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া খেলোয়াড়দের মধ্যে তাঁর অবস্থান দশম। ভিনির আনুমানিক বাজারমূল্য ১২ কোটি ৮০ লাখ ইউরো। তালিকায় শীর্ষ তিনে আছেন যথাক্রমে লামিনে ইয়ামাল, আর্লিং হলান্ড ও কিলিয়ান এমবাপ্পে।
তবে বাজারমূল্যের এই হিসাবকে সম্ভবত খুব একটা গুরুত্ব দেবেন না ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তাঁর মতে, বর্তমান পারফরম্যান্স বিবেচনায় জাতীয় দলে সেরা পাঁচ খেলোয়াড়দের মধ্যে দুজনই ব্রাজিলের।
আনচেলত্তির ভাষায়, ‘আমরা সৌভাগ্যবান যে দলে এত প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছে। জাতীয় দলে থাকা বিশ্বের সেরা পাঁচ খেলোয়াড়ের মধ্যে দুজনই ব্রাজিলিয়ান। ... এই দল বিশ্বের সেরাদের সঙ্গে সমানতালে লড়াই করতে পারবে—এ বিষয়ে আমার যথেষ্ট জ্ঞান ও আত্মবিশ্বাস আছে।’
একই তালিকায় বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার অবস্থান দেখে কিছুটা খুশি হতে পারে ব্রাজিল ভক্তরা। ৮ নম্বরে থাকা আর্জেন্টিনার স্কোয়াডের বাজারমূল্য ৭৩ কোটি ৯০ লাখ ইউরো। বেশির ভাগ খেলোয়াড় ইউরোপিয়ান শীর্ষ ক্লাবে না খেলার কারণেই মূল্য তালিকায় লিওনেল মেসিদের এমন পতন দেখা গেছে।
