

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে সম্প্রতি চাল আমদানির কারণে দেশের বাজারে সরবরাহ বেড়ে গেছে। এতে পাইকারি বাজারে বিভিন্ন মানের চালের দাম বস্তাপ্রতি সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে গত দুই সপ্তাহে।
চট্টগ্রামের চাক্তাই ও পাহাড়তলী পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ ব্যবসায়ী আগের তুলনায় কম দামে চাল বিক্রি করছেন।
বর্তমানে মিনিকেট সিদ্ধ বিক্রি হচ্ছে বস্তাপ্রতি ২ হাজার ৮০০ টাকায়, যা আগে ছিল ২ হাজার ৯০০ টাকা। পাইজাম সিদ্ধের দাম কমে ২ হাজার ৭০০ টাকা, কাটারিভোগ সিদ্ধ ১ হাজার ৭০০ টাকা এবং কাটারিভোগ আতপ ৩ হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি ধরনের চালেই ১০০ থেকে ৩০০ টাকার হ্রাস লক্ষ্য করা গেছে।
এছাড়া মিনিকেট আতপ বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৫০ টাকায়, নাজিরশাইল সিদ্ধ ২ হাজার টাকায়, স্বর্ণা সিদ্ধ ২ হাজার ৪০০ টাকায়, বেতী আতপ ২ হাজার ২৫০ টাকায় এবং মোটা সিদ্ধ ২ হাজার ১৫০ টাকায়।
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, এক মাসে সরু চালের দাম ১.৮৪ শতাংশ এবং মাঝারি মানের চালের দাম ৩.৭০ শতাংশ কমেছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারত থেকে ব্যাপক পরিমাণ চাল আমদানির ফলে বাজারে সরবরাহ বেড়েছে এবং দামও নিম্নমুখী হয়েছে। তবে খুচরা বাজারে এর পূর্ণ প্রভাব এখনও পড়েনি বলে জানিয়েছেন ভোক্তারা।
খাদ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মোট ১৩ লাখ টন চাল আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে সরকার আমদানি করেছে ৮ লাখ ৩০ হাজার টন এবং বেসরকারি খাত এনেছে প্রায় ৪ লাখ ৭০ হাজার টন। সরকারি আমদানির মধ্যে ৬ লাখ টন এসেছে ভারত থেকে, ১ লাখ টন মিয়ানমার থেকে, ১ লাখ টন ভিয়েতনাম থেকে এবং বাকিটা পাকিস্তান থেকে। বেসরকারি আমদানিতেও ভারতীয় চালের আধিপত্য দেখা গেছে।
সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে নতুন করে ভারত থেকে আরও ৫০ হাজার টন চাল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার জন্য ব্যয় হবে ২১৯ কোটি ৯ লাখ টাকা। প্রতিটন চালের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫৯.৭৭ মার্কিন ডলার। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টন গম আমদানি করবে সরকার, প্রতিটন ৩০৮ ডলারে।
এছাড়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জরুরি পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয়ভাবে আরও ৪ লাখ টন চাল আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
চট্টগ্রামের পাহাড়তলী বণিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এসএম নিজাম উদ্দিন বলেন, ভারতীয় চালের সরবরাহ বেড়েছে বলে দাম কমেছে। বাজারে দেশীয় চালের মজুদও ভালো। আগামী দুই মাসের মধ্যে কৃষকদের ঘরে নতুন আমন ধান আসবে, তখন সরবরাহ আরও বাড়বে।
চট্টগ্রাম রাইস মিল মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ হোসেন বলেন, ভারত থেকে আমদানি বাড়ায় দেশীয় চালের চাহিদা কিছুটা কমেছে। আগে কিছু বড় গ্রুপ বাজার নিয়ন্ত্রণ করত, এখন অনেকেই চাল আমদানি করতে পারছেন। ফলে প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে, যা দামের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
মন্তব্য করুন
