শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চালক কিংবা যাত্রী কারোরই হেলমেট নাই: সড়ক উপদেষ্টা

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২৫, ০৯:৫৫ এএম আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৫, ০৯:৫৭ এএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

সড়ক পরিবহন ও সেতু উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, “আমার বয়স ৭২ বছর পার হয়েছে। এখন যদি আমাকে সরে যাওয়ার কথা ভাবতে হয়, সেটি হবে অত্যন্ত বেদনাদায়ক।”

বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) সকালে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে ‘উপদেষ্টার রোজনামচা: চালকের হেলমেট নাই ও সেফ এক্সিট’ শিরোনামে প্রকাশিত এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

পোস্টে উপদেষ্টা জানান, সকালে তিনি ট্রেনে ভৈরব সফরে যান। সঙ্গে ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. মইনুদ্দিনসহ রেলওয়ে ও সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা।

কমলাপুর রেলস্টেশন পরিদর্শনের পর ভৈরবে পৌঁছে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তাদের দাবি, আশুগঞ্জ স্টেশনকে পুনরায় ‘বি-শ্রেণি’ স্টেশনের মর্যাদা দিতে হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, স্টেশনটি উঁচু জায়গায় হওয়ায় নারী ও বয়স্ক যাত্রীদের ওঠানামায় কষ্ট হচ্ছে। সিগন্যালিং ও অবকাঠামোগত ত্রুটি নিরসনের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

মোটরসাইকেল চালকের হেলমেট না থাকা প্রসঙ্গে তিনি লিখেন, ‘সেখান থেকে সরাইলের পথে রওনা হই। সাত/আট কিলোমিটার পথে এক ঘণ্টা অবস্থানের পরেও অগ্রগতি না হওয়ায় প্রথমে পায়ে হেঁটে ও পরে মোটরসাইকেলযোগে রওনা দিই।

মোটরসাইকেল খুঁজতে গিয়ে দেখা যায়, চালক কিংবা যাত্রী কারোরই হেলমেট নাই। আট-দশটা মোটরবাইক খুঁজে একটিমাত্র হেলমেট পাওয়া যায়। অনেক খোঁজাখুঁজি ও অপেক্ষার পরও চালকের জন্য হেলমেট না পেয়ে সবার পরামর্শে একমাত্র হেলমেটটি নিজে পরে রওনা দেই।

হেলমেটবিহীন বাইকচালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকে পরামর্শ ও বিআরটিএ, জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছি।’

সরাইল বিশ্বরোডে যানজট প্রসঙ্গে উপদেষ্টা লিখেছেন, নির্মাণকাজের পাশাপাশি চালকদের অনিয়ম ও ট্রাফিক পুলিশের শিথিল তদারকির কারণে সমস্যা বাড়ছে। ভারতীয় ঋণে বাস্তবায়িত প্রকল্পটির ঠিকাদার ফের কাজে যোগ দিয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও লেখেন, “প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীর সঙ্গে আলোচনা করে ছয় দফা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। ইতোমধ্যে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীসহ ১২ জন কর্মকর্তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”

‘সেফ এক্সিট’ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, “নাহিদ ইসলাম আমার অত্যন্ত প্রিয় ও শ্রদ্ধার মানুষ। তার বক্তব্য নিয়ে আমার কিছু বলা শোভন নয়। আমি রাজনৈতিক বিষয়ে মন্তব্য করতে চাই না।”

শেষে তিনি লিখেন, “উপদেষ্টা হিসেবে কখনো ব্যক্তিস্বার্থে কাজ করিনি। কাউকে অবৈধভাবে চাকরি বা ব্যবসার সুযোগ দিইনি। আমেরিকা ও সিঙ্গাপুরে স্থায়ীভাবে থাকার সুযোগও ফিরিয়ে দিয়েছি। জনগণের জন্যই কাজ করেছি। তাই এখন যদি সেফ এক্সিটের কথা ভাবতে হয়, তা সত্যিই কষ্টের।”

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন