বৃহস্পতিবার
২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাম ইস্যুতে মিথ্যাচার করছে ইউনিসেফ!

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬, ১০:২৯ এএম
ইউনিসেফ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির প্রতিনিধি
expand
ইউনিসেফ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির প্রতিনিধি

হাম ইস্যুতে মিথ্যাচারের অভিযোগে ইউনিসেফের বিরুদ্ধে প্রশ্ন উঠেছে। দেশে টিকা সরবরাহ ও সংকট নিয়ে সংস্থাটির বক্তব্যকে বিভ্রান্তিকর দাবি করে সংশ্লিষ্ট মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে।

বুধবার (২০ মে) ইউনিসেফ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স জানান, ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত দেশে এক কোটি ৭৮ লাখ হামের টিকা এসেছে, যা মোট চাহিদার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ।

তবে এ বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে সমালোচকরা বলছেন, দেশে বছরে সাত কোটি টিকার প্রয়োজন হলেও বাস্তবে এত সংখ্যক শিশুকে একসঙ্গে টিকা দেওয়ার নজির নেই।

এদিকে, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই)-এর সহকারী পরিচালক ড. হাসানুল মাহমুদ দাবি করেছেন, দেশে টিকার কোনো সংকট ছিল না এবং এখনও নেই। তার মতে, নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই চলমান রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে ইউনিসেফ তাদের বক্তব্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য উপেক্ষা করেছে। বিশেষ করে, হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া শিশুদের একটি বড় অংশের বয়স ৯ মাসের নিচে, যাদের এখনো টিকা দেওয়ার সময় হয়নি সে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, ৫ মে পর্যন্ত ১ কোটি ৬৮ লাখের বেশি শিশু টিকা পেয়েছে, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার ৯৩ শতাংশ। শিগগিরই শতভাগ কভারেজ অর্জন সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এ প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠেছে, যদি ইতোমধ্যে এত বড় সংখ্যক শিশু টিকার আওতায় আসে, তাহলে ইউনিসেফের উল্লেখ করা টিকার ঘাটতি কতটা বাস্তবসম্মত।

এছাড়া ইউনিসেফ জানিয়েছে, ২০২৪ সাল থেকে অন্তত ১০টি বৈঠকে তারা সরকারকে টিকার ঘাটতির বিষয়ে সতর্ক করেছে।

তবে এই বৈঠকগুলোর পরও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ টিকা দেশে এসেছে, যা সংকটের ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

টিকা সংগ্রহ প্রক্রিয়া নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইউনিসেফ নিজে টিকা উৎপাদন করে না; তারা তৃতীয় পক্ষ থেকে টিকা সংগ্রহ করে সরবরাহ করে থাকে এবং এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট হ্যান্ডেলিং চার্জ গ্রহণ করে। ফলে বিকল্প উৎস থেকে টিকা সংগ্রহের সরকারি সিদ্ধান্তে সংস্থাটির আপত্তি থাকার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে, গত ৬ মে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১৫ লাখ ডোজ হামের টিকা গ্রহণকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, অল্প সময়ের মধ্যেই বড় পরিমাণ টিকা দেশে আনা সম্ভব হয়েছে এবং আরও বিপুল পরিমাণ টিকা আসার কথা রয়েছে।

সব মিলিয়ে হাম পরিস্থিতি, টিকা সরবরাহ এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য উপস্থাপন নিয়ে ইউনিসেফের বক্তব্যকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন