শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেয়ালে লেখা, ভালো কাজের বিনিময়ে পেট ভরে খাওয়া

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৫, ০৪:১৯ পিএম আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২৫, ০৪:২২ পিএম
ফুটপাতে বসে খাবার খাচ্ছেন নানা বয়সের মানুষ
expand
ফুটপাতে বসে খাবার খাচ্ছেন নানা বয়সের মানুষ

চট্টগ্রামের কলেজ সড়ক কিংবা কাজীর দেউড়ি স্টেডিয়াম এলাকার পাশে প্রতিদিন দুপুর ও সন্ধ্যায় দেখা যায় এক অনন্য দৃশ্য—ফুটপাতে বসে আছে নানা বয়সের মানুষ, তাদের দিকে এগিয়ে আসছে তরুণদের একটি দল।

তারা প্রত্যেককে দুটি প্রশ্ন করছে—‘আপনার নাম কী?’ আর ‘আজ আপনি কী ভালো কাজ করেছেন?’ এরপরই দেওয়া হচ্ছে গরম ভাত আর তরকারির প্লেট—পুরোটাই বিনামূল্যে।

এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের নাম ‘ভালো কাজের হোটেল’। রাজধানী ঢাকায় কয়েকজন তরুণের হাত ধরে শুরু হওয়া এ কার্যক্রম এখন ছড়িয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম ও কুড়িগ্রাম পর্যন্ত।

সংগঠনটির নাম ‘ইউথ ফর বাংলাদেশ’, যারা প্রায় চার হাজার সদস্যের সহযোগিতায় প্রতিদিন অসহায় মানুষকে একবেলা খাবারের ব্যবস্থা করে আসছে।

শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত যারা ভালো কোনো কাজ করেন—তাদের জন্য থাকে এই হোটেলের বিশেষ খাবার।

আর শুক্রবারগুলোতে তারা খাবার নিয়ে পৌঁছে যান মসজিদ, মাদরাসা বা এতিমখানায়। প্রতিদিন প্রায় দশজন তরুণ স্বেচ্ছাসেবক এই উদ্যোগে কাজ করেন।

বর্তমানে সারাদেশে প্রতিদিন প্রায় চার হাজারেরও বেশি মানুষের খাবারের ব্যবস্থা হয়। শুধু চট্টগ্রামেই প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ জন অসহায় মানুষ পেট ভরে খেতে পারেন তাদের উদ্যোগে।

এই গল্পের শুরু ২০০৯ সালে, ঢাকার কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর চিন্তা থেকে। অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছে থেকেই জন্ম নেয় এই ভ্রাম্যমাণ হোটেল। শুরুটা ছিল মাসে একদিন, পরে সপ্তাহে একদিন—এখন প্রতিদিনই চলছে এই মানবিক আয়োজন।

চট্টগ্রামে খাবার প্রস্তুতের জন্য সরাইপাড়া এলাকায় রয়েছে আলাদা রান্নাঘর ও বাবুর্চি। তবে ছাউনি না থাকা, বৃষ্টি বা রোদে জায়গা বদলের মতো কিছু বাস্তব সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় স্বেচ্ছাসেবকদের।

চট্টগ্রাম অঞ্চলের সমন্বয়ক মো. মোরশেদ জানান, প্রতিটি সদস্য মাসে তিনশ টাকা করে চাঁদা দেন, যা হোটেল পরিচালনার মূল অর্থায়ন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি কিছু দাতা সদস্যও নিয়মিত সহযোগিতা করছেন। যদিও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে পুরো মাসজুড়ে কার্যক্রম চালানো অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।

ভালো কাজের হোটেলের সদস্যরা চান, একদিন তাদের এই মানবিক উদ্যোগ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ুক—যাতে অন্তত একবেলা হলেও কেউ ক্ষুধার কষ্টে না থাকে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন