

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


গাজা অভিমুখে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলায় অংশ নেওয়া বাংলাদেশি শহিদুল ইসলাম আটক হয়েছেন।
ইসরায়েলি নৌবাহিনী গাজা উপকূলের অবরোধ ভাঙার উদ্দেশ্যে যাত্রা করা একটি নতুন ত্রাণবাহী ফ্লোটিলা আটক করেছে। আটক হওয়া যাত্রীদের মধ্যে বাংলাদেশের খ্যাতিমান আলোকচিত্রী ও লেখক শহীদুল আলম রয়েছেন বলে জানা গেছে।
আটকের কিছুক্ষণ পর নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিওতে শহীদুল আলম বলেন, আপনি যখন এই ভিডিওটি দেখছেন, তার আগে আমাদের সমুদ্রে আটক করা হয়েছে। আমাকে ইসরায়েলি বাহিনী অপহরণ করেছে, যারা পশ্চিমা শক্তিগুলোর সহায়তায় গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে। আমি আমার সহযোদ্ধা ও বন্ধুদের অনুরোধ করছি, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার লড়াই অব্যাহত রাখুন।
ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার জন্ম দেয়।
ইসরায়েলের দৈনিক টাইমস অব ইসরায়েল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজার অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করা নৌবহরটিকে থামিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং সব যাত্রীকে ইসরায়েলের একটি বন্দরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স –এ এক পোস্টে লিখেছেন, গাজার বৈধ সামুদ্রিক অবরোধ ভাঙার আরেকটি চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। জাহাজ ও যাত্রীদের নিরাপদে বন্দরে আনা হয়েছে এবং তাদের দ্রুত নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
এর এক সপ্তাহ আগে ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় ত্রাণ পৌঁছাতে যাওয়া ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ নামের ৪০টিরও বেশি জাহাজ আটক করেছিল। এটি ছিল গাজা অবরোধ ভাঙার সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক উদ্যোগ।
সেই অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন ৪৭৯ জন মানবাধিকারকর্মী, যাদের কয়েকদিন আটক রাখার পর বেশিরভাগকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়।
আটক অবস্থায় ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের হাতে নিষ্ঠুর ও অমানবিক আচরণের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ওই ফ্লোটিলার বেশ কয়েকজন অংশগ্রহণকারী। তাদের দাবি, আটকাবস্থায় মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, প্রায় ১৮ বছর ধরে গাজার উপকূলে ইসরায়েলের কঠোর সামুদ্রিক অবরোধ চলছে। আন্তর্জাতিক ত্রাণবাহী জাহাজগুলো সেখানে পৌঁছাতে পারে না। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন নিয়মিত এই অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করলেও, প্রায় প্রতিটি প্রচেষ্টাই ইসরায়েলি প্রতিরোধের মুখে ব্যর্থ হয়েছে।
শহীদুল আলমের অংশগ্রহণে এই সাম্প্রতিক ফ্লোটিলা আটক হওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশের মানবাধিকার ও সাংবাদিক সমাজ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং তার দ্রুত মুক্তি দাবি করছে।
মন্তব্য করুন
