শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছাত্রলীগ প্রসঙ্গে আবরার ফাহাদের ভবিষ্যদ্বাণী

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:৪৭ এএম
expand
ছাত্রলীগ প্রসঙ্গে আবরার ফাহাদের ভবিষ্যদ্বাণী

আমার ছেলের দোষটা কী ছিল? সে তো কেবল দেশবিরোধী আগ্রাসনের প্রতিবাদ করেছিল।— এমন বেদনাভরা কণ্ঠে নিজের অভিমান প্রকাশ করলেন শহীদ আবরার ফাহাদের বাবা, মো. বরকত উল্লাহ।

তিনি জানান, মৃত্যুর কিছুদিন আগে আবরার বলেছিলেন, ‘আমার রুমের আশেপাশে সবাই ছাত্রলীগের ছেলে। কেউ কিছু করতে আসলে ওরা আমাকে রক্ষা করবে।’ কিন্তু সেই ভবিষ্যদ্বাণী বিশ্বাসই তার মৃত্যুর সাক্ষী হয়ে দাঁড়ায়।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে আয়োজিত এক স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সারা দেশের জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে একযোগে প্রদর্শিত হয় প্রামাণ্যচিত্র ‘ইউ ফেইলড টু কিল আবরার ফাহাদ’।

আবরারের বাবা বলেন, সে শুধু দেশের স্বার্থে লিখত— ভারতের আগ্রাসন, পানি চুক্তি, কিংবা সীমান্তবিষয়ক অসাম্য নিয়ে। আমরা শুরুতে জানতামও না সে এইসব লিখছে। পরে জিজ্ঞাসা করলে বলেছিল— আমি তো দেশের পক্ষে লিখি, কেউ কষ্ট পাবে না।

তিনি আরও বলেন, “ওর ফেসবুকে লেখা ছিল— দেশভাগের পর বাংলাদেশ নিজস্ব বন্দর ব্যবহারের অধিকার না পেয়ে গোলাপপোর্ট চালু করে, এরপর থেকেই ইলিশের উৎপাদন কমে যায়। আবার লিখেছিল, পানি চুক্তিতে আমরা এক লাখ ৩৫ হাজার কিউসেক পানি দিয়েছি, অথচ সময়মতো কিছুই পাই না। এই লেখাগুলোকেই ওদের চোখে ‘অপরাধ’ বানানো হয়।”

তার অভিযোগ করে বলেন, এই কারণেই ছাত্রলীগের কিছু সদস্য ও আবরারের রুমমেট মিজান তাকে ‘শিবিরের কর্মী’ বলে অপবাদ দেয়। সেই মিথ্যা অভিযোগেই ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে হলে ফিরে যাওয়ার পর তাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়।

আবরারের বাবা স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, ছেলেটা খুব ভীতু ছিল। কেউ যদি ওকে বলত লেখালেখি বন্ধ করতে, তাহলে সে হলে ফিরতই না। অথচ যারা তার ওপর নির্যাতন চালায়, তারা জিজ্ঞাসা করেছিল— কে কে শিবির করে? অথচ আবরার কোনো সংগঠনেরই সদস্য ছিল না।

তিনি আরও বলেন, যারা আমার ছেলেকে মেরেছে, আল্লাহ তাদের বিচার করেছেন। আমি এখন শুধু চাই, দেশের আদালতে যেন এই মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্ন হয়।

আবরার ফাহাদের বাবা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “আমার ছেলের মামলা বর্তমানে আপিল বিভাগে আছে। আমি চাই, আর দেরি না করে এ মামলার রায় দ্রুত দেওয়া হোক।”

তিনি জানান, ২০১৯ সালে আবরার হত্যার পর থেকেই প্রতিবছর তার মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হচ্ছে। তবে এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে অনেক সাধারণ মানুষ ও আন্দোলনকর্মী নির্যাতন, গ্রেপ্তার, এমনকি কারাভোগও করেছেন। তিনি বলেন, “২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর এবারই প্রথম সারা দেশে একযোগে আমার ছেলের স্মরণে অনুষ্ঠান হচ্ছে— এজন্য আমি কৃতজ্ঞ।”

বক্তব্যের এক পর্যায়ে বরকত উল্লাহ বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন— গত ১৫ বছরে যারা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন, তাদের নামের তালিকা প্রস্তুত করা হবে। কিন্তু এখনো তা প্রকাশ হয়নি। আমি অনুরোধ করছি, তালিকাটি দ্রুত প্রকাশ করা হোক।”

শেষে তিনি বলেন, “আবরার ফাহাদসহ জুলাই-আগস্টে যারা শহীদ হয়েছেন, আমি তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ স্ট্যালিন, নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের পরিচালক দীপক কুমার গোস্বামীসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধি।

অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত হয় প্রামাণ্যচিত্র ‘You Failed to Kill Abrar Fahad’— যা আবরারের ভাবনা ও দেশের প্রতি তার ভালোবাসার সাক্ষ্য বহন করে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন