

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার ছয় বছর পূর্ণ হচ্ছে মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর। ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতের শেষ ভাগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরেবাংলা হলে তাকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী। দেশজুড়ে এই হত্যাকাণ্ডের পর সৃষ্টি হয় ব্যাপক ক্ষোভ ও বিক্ষোভের তরঙ্গ।
মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে দোষীদের মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হলেও, বর্তমানে তা আপিল বিভাগের শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। আবরারের পরিবার আশা করছে, হাইকোর্টের দেওয়া রায়ই সর্বোচ্চ আদালতে বহাল থাকবে। অন্যদিকে আসামিপক্ষ মনে করছে, তারা আপিল বিভাগে ন্যায়বিচার পাবে।
২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বাংলাদেশ-ভারত চুক্তি ও সীমান্তের পানি ভাগাভাগি নিয়ে ফেসবুকে সমালোচনামূলক স্ট্যাটাস দেওয়ার পর বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরারকে শেরে বাংলা হলের এক কক্ষে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে পেটানো হয়। পরে রাত ৩টার দিকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরের দিন, ৭ অক্টোবর চকবাজার থানায় আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ ১৯ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মাত্র ৩৭ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে ১৩ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক মো. ওয়াহিদুজ্জামান আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন: মেহেদী হাসান রাসেল, অনিক সরকার (অপু), মেহেদী হাসান রবিন (শান্ত), ইফতি মোশাররফ সকাল, মনিরুজ্জামান মনির, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, মাজেদুর রহমান মাজেদ, মুজাহিদুর রহমান মুজাহিদ, খন্দকার তাবাকারুল ইসলাম (তানভির), হোসেন মোহাম্মদ তোহা, শামীম বিল্লাহ, নাজমুস সাদাত, মুনতাসির আল জেমী, মিজানুর রহমান মিজান, মাহমুদ সেতু, সামসুল আরেফিন রাফাত, মোর্শেদ (অমর্ত্য ইসলাম), এহতেশামুল রাব্বি তানিম, মোর্শেদ উজ্জামান জিসান ও মুজতবা রাফিদ।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন: অমিত সাহা, ইস্তিয়াক আহমেদ মুন্না, আকাশ হোসেন, মুহতাসিম ফুয়াদ ও মোয়াজ আবু হোরায়রা।
২০২২ সালের ৬ জানুয়ারি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের রায় অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়। ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর করতে হলে তা উচ্চ আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। পরবর্তীতে আসামিরা জেল আপিল ও ফৌজদারি আপিল দাখিল করেন।
চলতি বছরের ১৬ মার্চ বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচজনের যাবজ্জীবন দণ্ড বহাল রাখেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু জানান, তারা হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আপিল করেছেন এবং সেখানে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছেন।
মন্তব্য করুন
