

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


তহবিলের ওপর চাপ তৈরি হওয়ায় দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এমনটা জানান তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সারা বিশ্বে তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। দেশের জনগণের স্বার্থে, তাদের কথা মাথায় রেখে এতদিন দাম বাড়ায়নি সরকার। সবাই প্রশ্ন করেছে, কেন তেলের দাম বাড়ানো হচ্ছে না, তহবিল খালি হয়ে যাচ্ছে।
আইএমএফের সঙ্গে তেলের দাম বাড়ানোর কোনো সম্পর্ক নেই জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যান্য দেশের মতো দাম বেশি বাড়ানো হয়নি। তহবিলের ওপর অনেক প্রেশার (চাপ) তৈরি হয়েছিল বলে দাম বাড়ানো হয়েছে। দেশের অর্থনীতি ও আগামী বাজেটের কথা মাথায় রেখে দাম সামান্য বাড়ানো হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থার সঙ্গে সরকারের আলোচনা এখনও চলমান এবং তা আগামী ১৫-২০ দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
তিনি বলেন, এসব আলোচনা একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং এখনও চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। দাতা সংস্থাগুলোর যেমন কিছু শর্ত ও প্রত্যাশা রয়েছে, তেমনি বাংলাদেশেরও নিজস্ব চাওয়া-পাওয়া আছে।
এদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, তেলের দাম বাড়ার ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে, আবার না-ও পারে। তবে সরকার তেলের মজুদ ঠিক রেখেছে। শুধু তেলের দামের ওপর নির্ভর করে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ে না।
অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, দাতা সংস্থার সব শর্ত মেনে নেওয়া সম্ভব নয়, কারণ সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। জনগণের স্বার্থের বাইরে গিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এমন কোনো সিদ্ধান্ত সরকার নেবে না। আইএমএফের সঙ্গে পূর্ববর্তী সরকারের নেওয়া কর্মসূচির কিছু শর্ত বর্তমান সরকারের কাছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আইএমএফের বর্তমান কর্মসূচির মেয়াদ আগামী ৬-৭ মাসের মধ্যে শেষ হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, এরপর নতুন কোনো কর্মসূচিতে যাওয়া হবে কি না, তা বর্তমান সরকার পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।
তিনি আরও বলেন, সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার বাদ দিয়ে কোনো শর্ত মানার সুযোগ নেই। এছাড়া সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি দাতা সংস্থাগুলোর কাছেও ইতিবাচকভাবে গৃহীত হয়েছে।
মন্তব্য করুন
