

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের নাটকীয় এক ম্যাচে স্প্যানিশ জায়ান্টকে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখ। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ আর গোলবন্যার এই ম্যাচে শেষ মূহূর্তে জোড়া করে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে বাভারিয়ানরা।
১৯৭০-৭১ মৌসুমের পর থেকে নিজেদের মাঠে নকআউট পর্বের প্রথম লেগে হেরে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি রিয়াল। সেই পরিসংখ্যান এবারও বদলাতে পারল না তারা। আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় দ্বিতীয় লেগে ৪-৩ গোলে হেরে দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৪ ব্যবধানে ছিটকে গেছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। এদিন খেলা শুরুর মাত্র ৪৬ সেকেন্ডেই এগিয়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদ। প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে আর্দা গুলেরের নেওয়া শট জালে জড়িয়ে গেলে চমকে ওঠে গ্যালারি।
তবে দ্রুতই ঘুরে দাঁড়ায় বায়ার্ন। চতুর্থ মিনিটে জশুয়া কিমিখের নেওয়া কর্নার থেকে আলেকজান্ডার পাভলোভিচ হেডে গোল করে সমতা ফেরান। শুরুতেই দুই দলের আক্রমণাত্মক মানসিকতা ম্যাচটিকে করে তোলে আরও উপভোগ্য।
২৮তম মিনিটে আবারও রিয়ালকে এগিয়ে দেন গুলের। ফ্রি-কিক থেকে নেওয়া তার নিখুঁত শট বায়ার্ন গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারকে পরাস্ত করে। এতে ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় রিয়াল।
কিন্তু বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি সেই লিড। ১০ মিনিট পরই দায়ো উপামেকানোর বাড়ানো বল থেকে হ্যারি কেইন দারুণ ফিনিশিংয়ে গোল করে সমতা ফেরান। এই গোলের ফলে ম্যাচে ২-২ হলেও এগ্রিগেটে এগিয়ে থাকে বায়ার্ন।
গোল হজমের পর কিছুটা চাপে পড়ে রিয়াল। উত্তেজনার মুহূর্তে মিলিতাও ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন। তবে প্রথমার্ধের শেষ দিকে আবারও ম্যাচে ফিরে আসে রিয়াল। বাঁ প্রান্ত থেকে আক্রমণে উঠে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ক্রস থেকে কিলিয়ান এমবাপ্পে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় রিয়াল।
দ্বিতীয়ার্ধে চিত্র পাল্টে যায়। গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠে বায়ার্ন মিউনিখ। একের পর এক আক্রমণ চালালেও রিয়াল রক্ষণ ভাঙা সহজ হচ্ছিল না। অন্যদিকে, পাল্টা আক্রমণে সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় রিয়াল।
ম্যাচের শেষ দিকে এসে বড় ধাক্কা খায় স্প্যানিশ দলটি। ৮৬তম মিনিটে হ্যারি কেইনকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ায় রিয়ালের রক্ষণ আরও দুর্বল হয়ে পড়ে।
এর সুযোগ নেয় বায়ার্ন। ৮৮তম মিনিটে জামাল মুসিয়ালার সঙ্গে বোঝাপড়ার পর দিয়াস দূরপাল্লার শটে গোল করেন। বলটি মিলিতাওয়ের গায়ে লেগে দিক বদলে জালে ঢুকে গেলে এগিয়ে যায় বায়ার্ন।
যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে ম্যাচের শেষ পেরেক ঠোকেন ওলিসে। রিয়াল যখন সমতা ফেরাতে অল-আউট আক্রমণে ব্যস্ত, তখনই পাল্টা আক্রমণ থেকে গোল করে ব্যবধান বাড়ান তিনি।
শেষ পর্যন্ত ৪-৩ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে এবং দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৪ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে বায়ার্ন মিউনিখ।
মন্তব্য করুন
