

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশসহ অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা জনগুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো বাতিলের প্রক্রিয়া বন্ধ করে অবিলম্বে সেগুলো আইনে পরিণত করার দাবিতে মানবাধিকার সংগঠন অধিকার রাজধানী ঢাকাসহ রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, ময়মনসিংহ, চাট্টগ্রাম, ফেনী, লক্ষ্মীপুর এবং সাতক্ষীরায় প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অধিকার এর প্রোগ্রাম পরিচালক এবং গুম সংক্রান্ত ইনকোয়ারি কমিশনের সাবেক সদস্য সাজ্জাদ হোসেন এর সঞ্চলনায় গুম হতে ফিরে আসা ব্যক্তি এবং গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য এবং মানবাধিকার কর্মীরা বক্তব্য রাখেন।
২০১৯ সালে গুমের শিকার বিএনপি কর্মী ও কাঠ ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন বাতেনের স্ত্রী নাসরিন জাহান স্মৃতি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশকে আইন পরিণত না করে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারগুলোর সঙ্গে সরকার প্রতারণা করেছেন।
এছাড়া সমাবেশে বাতেনের মেয়ে আনিসা ইসলাম ইনশা, ২০১২ সালে গুম হওয়া ছাত্রদল নেতা মিরাজ খান ও ফিরোজ খানের পরিবারের সদস্য আমেনা আক্তার বৃষ্টি, ২০২০ সালে গুম হওয়া বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলামের স্ত্রী ফাতেমা ইসলাম সিমলা, ২০২৩ সালে গুম হওয়ার পর ভারত থেকে ফিরে আসা রহমতউল্লাহ বক্তব্য রাখেন।
এছাড়া সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অধিকার এর এডভোকেসি পরিচালক তাসকিন ফাহমিনা, অধিকার এর প্রশাসন ও অর্থ বিষয়ক পরিচালক এএসএম নাসির উদ্দিন এলান। বক্তারা প্রত্যেকে অধ্যাদেশগুলো অবিলম্বে আইনে পরিণত করার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান।
উল্লেখ্য, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগের জন্য সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ ও স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার জন্য সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬, জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তবর্তীকালীন বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ এই চারটি অধ্যাদেশ বাতিল (রহিত) করতে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি জাতীয় সংসদে বিল আনার সুপরিশ করেছে। এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশনের ক্ষমতা বাড়িয়ে করা অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশসহ অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৬টি জনগুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ এখনই বিল আকারে উত্থাপন না করার সুপারিশ করা হয়েছে। এরফলে অধ্যাদেশগুলো বাতিল হিসেবে গণ্য হবে এবং আগামী ১০ এপ্রিলের পর এগুলো কার্যকারিতা হারাবে।
মন্তব্য করুন
