

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিদায়ী মার্চে দেশের গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ৬১৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬১৯ জন নিহত এবং ১,৫৪৮ জন আহত হয়েছেন। এ মাসে রেলপথে ৪৫টি দুর্ঘটনায় ৫৪ জন নিহত ও ২২৯ জন আহত হয়েছেন।
তথ্যমতে, নৌপথে ৯টি দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত, ১৯ জন আহত এবং ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। সড়ক, রেল ও নৌপথে সর্বমোট ৬৭০টি দুর্ঘটনায় ৬৮২ জন নিহত এবং ১,৭৯৬ জন আহত হয়েছেন। এ সময়ে ২২২টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২৩৭ জন নিহত ও ১৯৭ জন আহত হয়েছেন। যা মোট দুর্ঘটনার ৩৬.০৩ শতাংশ, নিহতের ৩৮.৬১ শতাংশ এবং আহতের ১২.৭২ শতাংশ।
শনিবার সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক বার্তায় এ প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এ তথ্য সংগ্রহ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এ মাসে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে—১৬০টি দুর্ঘটনায় ১৭০ জন নিহত ও ৩২০ জন আহত হয়েছেন। সবচেয়ে কম সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে বরিশাল বিভাগে—৩০টি দুর্ঘটনায় ২৭ জন নিহত ও ১২২ জন আহত হয়েছেন। প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও কয়েকগুণ বেশি হতে পারে, যা সংবাদপত্রে স্থান না পাওয়ায় তুলে আনা সম্ভব হয়নি।
সড়ক দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ৯ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ১৫৭ জন চালক, ৯০ জন পথচারী, ১৭ জন পরিবহন শ্রমিক, ৬৮ জন শিক্ষার্থী, ১৫ জন শিক্ষক, ৭৮ জন নারী, ৮৬ জন শিশু, ৩ জন চিকিৎসক, ৪ জন সাংবাদিক, ১ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা, ১ জন আইনজীবী, ৩ জন প্রকৌশলী এবং ১৩ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর পরিচয় পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে নিহত হয়েছেন—৫ জন পুলিশ সদস্য, ১ জন আনসার সদস্য, ১ জন বিজিবি সদস্য, ১ জন ফায়ার সার্ভিস সদস্য, ১ জন চিকিৎসক, ১ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা, ১৫০ জন বিভিন্ন পরিবহনের চালক, ৮৪ জন পথচারী, ৭৪ জন নারী, ৮২ জন শিশু, ৬৭ জন শিক্ষার্থী, ১২ জন পরিবহন শ্রমিক, ১৪ জন শিক্ষক, ১ জন আইনজীবী, ৩ জন প্রকৌশলী এবং ৯ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী।
এ সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় জড়িত ৯৭৫টি যানবাহনের পরিচয় পাওয়া গেছে। এতে দেখা যায়—২৬.৭৬ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২১.৬৪ শতাংশ ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান ও লরি, ১৩.৮৪ শতাংশ বাস, ১৪.৫৬ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ৭.২৮ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ৮.৪১ শতাংশ নছিমন-করিমন-মাহিন্দ্রা-ট্রাক্টর ও লেগুনা এবং ৭.৪৮ শতাংশ কার-জিপ-মাইক্রোবাস দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে।
সংগঠিত মোট দুর্ঘটনার মধ্যে ৩২.৪৬ শতাংশ গাড়িচাপা বা ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা, ৩৭.৬৬ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২১.৪২ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যাওয়া, ৭.১৪ শতাংশ বিবিধ কারণে, ০.৩২ শতাংশ চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে এবং ০.৯৭ শতাংশ ট্রেন-যানবাহনের সংঘর্ষে ঘটেছে।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ মাসে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৪০.৯০ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৩০.০৩ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে এবং ২২.০৭ শতাংশ ফিডার সড়কে ঘটেছে। এছাড়া সারা দেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৫.৫১ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, ০.৪৮ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে এবং ০.৯৭ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে ঘটেছে।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে বলা হয়, মার্চ মাসে সড়ক দুর্ঘটনার উল্লেখযোগ্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে—সড়ক-মহাসড়কে মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশার অবাধ চলাচল। জাতীয় মহাসড়কে পর্যাপ্ত রোড সাইন, রোড মার্কিং ও সড়কবাতি না থাকায় অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটে। এছাড়া ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্যের কারণে বাসের ছাদে, খোলা ট্রাক ও পিকআপে, ট্রেনের ছাদে এবং বাসের ইঞ্জিন বোনেটে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীদের যাতায়াত করতে হয়েছে।
দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সংগঠনটি বেশ কিছু সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—সড়কে প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, ভাড়া আদায়ে স্মার্ট পদ্ধতি চালু করা, বিআরটিএ অনুমোদিত ড্রাইভিং স্কুলের সরকার ঘোষিত ৬০ ঘণ্টার ইনক্লুসিভ ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান বন্ধ করা, পরিবহন খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা এবং মালিক সমিতির একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করা। এছাড়া সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইউনিট চালু করা এবং ঈদযাত্রায় বিপুল সংখ্যক মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি ঢাকার ওপর জনসংখ্যার চাপ কমানোর দাবিও জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন