শনিবার
২১ মার্চ ২০২৬, ৭ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
২১ মার্চ ২০২৬, ৭ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘‌ভারত নয়, তিস্তা প্রকল্পে চীনের পক্ষেই জামায়াতের পূর্ণ সমর্থন'

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২১ মার্চ ২০২৬, ০৭:২৪ পিএম
জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান ও বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত
expand
জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান ও বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, তিস্তা নদী সংক্রান্ত বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে চীন এগিয়ে এলে দলটি পূর্ণ সমর্থন দেবে। তিনি বলেন, দেশের ও জনগণের কল্যাণে যেকোনো ইতিবাচক উদ্যোগে জামায়াত পাশে থাকতে প্রস্তুত। প্রয়োজনে প্রকল্প বাস্তবায়নে সরাসরি সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ঢাকা-১৫ আসনের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে অসচ্ছল মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, চীনের সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূতও উপস্থিত ছিলেন।

বক্তব্যে শফিকুর রহমান তিস্তা নদীকে দেশের উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন, তবে অতীতে বিভিন্ন কারণে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি—যা সাধারণ মানুষও অনুধাবন করে। ভবিষ্যতে এ ধরনের স্থবিরতা কাটিয়ে নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকার ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ নামে একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প হাতে নেয়। ২০১৬ সালে প্রাথমিক সমীক্ষার মাধ্যমে এর কার্যক্রম শুরু হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বিভিন্ন সময়ে চীন ও ভারত আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াতের আমির বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে দেশটি বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছে। অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চীনের সহযোগিতার কথাও তিনি তুলে ধরেন।

এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে কিছু ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বন্ধুত্বের নিদর্শন যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, চীন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় রেখেছে।

শফিকুর রহমান আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার হবে এবং আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করা সম্ভব হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন