

বিএনপির ভ্যানগার্ড খ্যাত সংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদল বর্তমানে সুপার সেভেন বা ৭ সদস্যের কমিটি দিয়ে চলছে।
এই কমিটি দীর্ঘদিন ধরে পূর্ণাঙ্গ করার দাবির মধ্যেই নতুন কমিটি নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ায় বিভক্ত হয়ে পড়েছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
এর আগে, ২০২৪ সালের ৯ জুলাই বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আব্দুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি, রেজাউল করিম পলকে সিনিয়র সহ-সভাপতি, মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক, বিল্লাল হোসেন তারেককে ১নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, কামরুজ্জামান জুয়েলকে সাংগঠনিক সম্পাদক ও নুরুল ইসলাম সোহেলকে দপ্তর সম্পাদক করা হয়। পরে মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়াকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সেই থেকে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন তারা। যদিও দেড় বছরেও সেই কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা যায়নি।
তবে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন ও ত্যাগী নেতাকর্মী মূল্যায়িত হোক চান যুবদল সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন এমপি। এ বিষয়ে বিএনপির হাইকমান্ডের সঙ্গে কথা বলে ত্যাগী নেতাকর্মীদের তালিকাও জমা দিয়েছেন তারা। তাই ধারণা করা হচ্ছে যে কোন সময় যুবদলের কমিটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হতে পারে।
অন্যদিকে, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভিড় করা কয়েকজন নেতাকর্মী জানান, মুন্না-নয়ন কমিটি দীর্ঘদিনেও পূর্ণাঙ্গ না হওয়ায় বিএনপির যুব এই সংগঠনটির শীর্ষ নেতৃত্বের দাবিদার নেতারা পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার চেয়ে নতুন কমিটি ঘোষণার দাবি সামনে নিয়ে আসছেন।
সেই লক্ষ্যে তারা তদবির ও নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। তবে সিনিয়র নেতারা নতুন কমিটির পক্ষে অবস্থান নিলেও তুলনামূলকভাবে জুনিয়র নেতারা দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কমিটি চান।
সাংগঠনিক কাঠামো আরও গতিশীল ও কার্যকর করার লক্ষ্যে ত্যাগী নেতাকর্মীর সমন্বয়ে বর্তমান কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার দাবি করেছেন তারা। তবে ভিন্নমতও রয়েছে।
বর্তমান কমিটি পূর্ণাঙ্গ হোক অথবা নতুন করে কমিটি হোক না কেন তাতে অনেক নেতা ও তাদের অনুসারীরা বাদ পড়ে যাবেন এই আশঙ্কায় পক্ষে-বিপক্ষে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন দেশের বৃহত্তম যুব এই সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
তারা আরও জানান, যুবদল সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ঢাকা মহানগর বিএনপির শীর্ষ পদে আলোচনায় রয়েছেন। তাই গুঞ্জন রয়েছে তাকে যুবদল থেকে সরিয়ে ঢাকা মহানগর বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত করা হবে।
তাই যুবদলের বর্তমান কমিটি পূর্ণাঙ্গ না হলে অথবা আংশিক পরিবর্তন হলে সংগঠনটির দীর্ঘদিনের প্রথা বা রীতিনীতি অনুযায়ী যুবদলের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন এমপি সভাপতির দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন।
তবে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে সংসদ অধিবেশন ও এলাকার মানুষের জন্য ব্যস্ত সময় পার করছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় তাকেও যুবদল ছাড়তে হতে পারে।
তাই এবার দীর্ঘদিনের প্রথা বা রীতিনীতি ভঙ্গ হতে পারে অর্থাৎ যুবদলের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক পরের কমিটির সভাপতি এবার নাও হতে বলে সংগঠনটির একটি সূত্র জানিয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন কমিটি গঠনের সম্ভাবনা বেশি। আর সেই নতুন কমিটির নেতৃত্বের আলোচনায় রয়েছেন রাজপথের পরীক্ষিত সাবেক ছাত্র ও যুবনেতারা।
এছাড়া, বিএনপি একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, বিএনপির প্রায় সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃত্বে এবার বড় ধরনের পরির্বতন আসছে। স্বাভাবিকভাবে বিএনপির যুব এই সংগঠনেও পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। তাই যুবদলের নেতৃত্বে কারা আসছেন এ নিয়ে যুবদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনার ঝড় শুরু হয়েছে।
নয়াপল্টনে ভিড় করা নেতাকর্মীদের ভাষ্যমতে, যুবদলের শীর্ষ পদের জন্য আলোচনায় রয়েছেন যুবদলের সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি হাসান মামুন, যদিও তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির শীর্ষ পদেও আলোচনায় রয়েছেন, যুবদল সভাপতির দৌড়ে আরও আলোচনায় রয়েছেন সাবেক সহ সভাপতি জাকির হোসেন সিদ্দিকী, বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহ সভাপতি রেজাউল করিম পল।
যুবদলের শীর্ষ পদগুলোতে আলোচনায় আরও রয়েছেন- বর্তমান কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেক, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান জুয়েল, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাঈদ ইকবাল টিটো, ঢাকা মহানগর যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক গোলাম মাওলা শাহীন, ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সদস্য সচিব মোস্তফা জগলুল পাশা (পাভেল), জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আকরামুল হাসান মিন্টু, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফজলুর রহমান খোকন, কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ।
এ ছাড়া, চমক হিসেবে যুবদলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বর্তমান আহ্বায়ক খন্দকার এনামুল হক এনাম, সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়ন, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহবায়ক শরীফ উদ্দিন জুয়েল ও সদস্য সচিব সাজ্জাদুল মিরাজের নামও আলোচনায় রয়েছে।
যুবদলের কমিটি কবে নাগাদ হতে পারে এমন প্রশ্ন করলে যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান জুয়েল জানান, যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আপ্রাণ চেষ্টা করছেন পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়ার জন্য। আশা করছি দেশনায়ক তারেক রহমানের নির্দেশনায় খুব দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে।
যুবদলের কমিটির ব্যাপারে জানতে চাইলে যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন এমপি বলেন, কমিটি তাড়াতাড়ি হওয়া দরকার, হলে ভালো হয়। আমরা চেষ্টা করছি। তালিকা করে জমা দিয়েছি। এখন সাংগঠনিক অভিভাবক বিষয়টি দেখবেন।
সূত্র: আরটিএনএন