

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের পরবর্তী দেশে সংঘটিত সহিংসতায় অন্তত ১০ জন নিহত এবং ৪৭৬ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন অধিকার। ১৩ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১০৪টি সহিংস ঘটনার তথ্য তারা নথিভুক্ত করেছে। নিহতদের মধ্যে একজন শিশু রয়েছে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্বাচনের পরও রাজনৈতিক উত্তেজনা ও দলীয় বিরোধ অব্যাহত থাকায় বিভিন্ন স্থানে প্রাণহানি ও আহতের ঘটনা ঘটছে। এ পরিস্থিতি জবাবদিহি ও কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।
প্রতিবেদনটি ‘Supporting the Restoration of Democracy: Monitoring and Reporting Electoral Violence in Bangladesh’ শীর্ষক কার্যক্রমের আওতায় প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে সহায়তা দিচ্ছে European Partnership for Democracy (ইপিডি)। দেশের ৮টি বিভাগের ২২টি জেলার ৫০টি সংসদীয় আসনে সরাসরি পর্যবেক্ষণ এবং জাতীয় গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
১০৪টি ঘটনার মধ্যে ২৯টি ঘটনা ছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর সংশ্লিষ্ট অংশের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকেন্দ্রিক। এসব ঘটনায় ৪জন নিহত এবং ১৩৬ জন আহত হয়েছেন। মোট মৃত্যুর ৪০ শতাংশ এবং আহতের প্রায় ২৯ শতাংশ এসব ঘটনায় ঘটেছে।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের কর্মী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মী, আওয়ামী লীগ-সমর্থক, স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক, নির্দলীয় নাগরিক এবং এক শিশু রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অধিকারের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা বিভাগ-এ সর্বোচ্চ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে- এখানে তিনজন নিহত এবং ১৯১ জন আহত হয়েছেন।
রাজশাহী বিভাগ ও বরিশাল বিভাগ-এ দুজন করে নিহত হয়েছেন; আহত হয়েছেন যথাক্রমে ৫৭ ও ৪৪ জন।
ঢাকা বিভাগ-এ একজন নিহত ও ৯০ জন আহত হয়েছেন। চট্টগ্রাম বিভাগ এবং ময়মনসিংহ বিভাগ-এ একজন করে নিহতের পাশাপাশি আহত হয়েছেন যথাক্রমে ৭৬ ও ১৩ জন।
রংপুর বিভাগ ও সিলেট বিভাগ-এ আহতের সংখ্যা তুলনামূলক কম—৪ ও ১ জন।
সংগঠনটি হতাহতের সংখ্যা অনুযায়ী জেলাগুলোকে ‘গুরুতর’, ‘উচ্চ’, ‘মাঝারি’, ‘নিম্ন’ ও ‘স্থিতিশীল’—এই পাঁচ শ্রেণিতে ভাগ করেছে।
৫০টি পর্যবেক্ষণাধীন আসনের মধ্যে ১৭টিতে ৩২টি সহিংস ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় পাঁচজন নিহত ও ৪১ জন আহত হয়েছেন। খুলনা-৩ আসনে সর্বোচ্চ ২০ জন আহত হওয়ার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
সহিংসতার ধরন হিসেবে শারীরিক হামলা, সম্পত্তি ভাঙচুর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সিলেটে একটি হিন্দু মন্দিরে রাতের হামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৩০টি ঘটনার মধ্যে ১৯টি বিএনপি ও তার জোট-সম্পৃক্ত, তিনটি জামায়াতে ইসলামী-সম্পৃক্ত, একটি আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সঙ্গে যুক্ত এবং তিনটি স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সঙ্গে সম্পর্কিত। নয়টি ঘটনায় কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করা যায়নি।
অধিকার সব ঘটনার নিরপেক্ষ ও সময়সীমাবদ্ধ তদন্ত, অভ্যন্তরীণ দলীয় বিরোধ নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নাগরিক সুরক্ষা জোরদার এবং আগাম সতর্কতা ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে।
সংগঠনটি বলেছে, নির্বাচন-পরবর্তী সময়েও সহিংসতার ঝুঁকি থাকে-এ বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক কৌশল অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।
অধিকার জানিয়েছে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও জবাবদিহি শক্তিশালী করতে তারা এ ধরনের পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
মন্তব্য করুন
