বুধবার
০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বুধবার
০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ও রাষ্ট্রপতির নাম প্রায় চূড়ান্ত: আসছে ঘোষণা!

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০২৬, ১০:৩৬ এএম
জাতীয় সংসদ ভবন-ফাইল ছবি
expand
জাতীয় সংসদ ভবন-ফাইল ছবি

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দুই সপ্তাহ পেরিয়েছে। এরই মধ্যে রাষ্ট্রের দুই গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদ-রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার-নিয়ে দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারা এসব পদে আসতে পারেন, তা নিয়ে অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা চলছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

বিএনপি নেতারা বলছেন, রাষ্ট্র ও সংসদের শীর্ষ পদে অভিজ্ঞ এবং রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্বকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জ্যেষ্ঠ নেতা ও আইন পেশায় অভিজ্ঞ কয়েকজনের নাম ঘুরেফিরে আলোচনায় আসছে।

রাষ্ট্রপতি পদে কারা আলোচনায়

দলীয় সূত্রগুলোর ভাষ্য, রাষ্ট্রপতি হিসেবে খন্দকার মোশাররফ হোসেন-এর নাম গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রয়েছে। দীর্ঘদিন দলীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সক্রিয় থাকা এবং মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তাঁর পক্ষে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এ ছাড়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর-এর নামও আলোচনায় এসেছে। তবে তিনি প্রকাশ্যে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন—বর্তমান রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ না হলে এখনই নির্বাচন প্রসঙ্গ কেন সামনে আসছে। তাঁর মতে, রাষ্ট্রপতি হওয়ার মতো যোগ্য ব্যক্তি দলে একাধিক আছেন, কিন্তু সাংবিধানিক সময়সীমা বিবেচনা করা জরুরি।

অন্যদিকে দলের ভেতরে কেউ কেউ মনে করছেন, আগের সরকারের আমলে নির্বাচিত বর্তমান রাষ্ট্রপতির পরিবর্তে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রশ্ন বিবেচনায় আনা যেতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

স্পিকার পদে সম্ভাব্য মুখ

জাতীয় সংসদের স্পিকার পদেও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ওসমান ফারুক এবং বর্তমান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমদ। দুজনেরই দীর্ঘ সংসদীয় ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে।

এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন-এর নামও আলোচনায় আছে। আইন ও সংবিধান বিষয়ে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা স্পিকার পদে বিবেচনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দলীয় মহাসচিব জানিয়েছেন, স্পিকার হওয়ার মতো যোগ্যতা রয়েছে এমন নেতার সংখ্যা দলে কম নয়। জ্যেষ্ঠতা, সাংবিধানিক জ্ঞান ও রাজনৈতিক ভারসাম্য—সব দিক বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

ডেপুটি স্পিকার নিয়ে পরিকল্পনা

আগামী ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন বসার কথা রয়েছে। অধিবেশনের শুরুতেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করতে হবে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ডেপুটি স্পিকার পদে বিরোধী দল থেকে একজনকে নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে।

সে ক্ষেত্রে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-কে নাম প্রস্তাবের আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে জামায়াত এখনই ডেপুটি স্পিকার পদ নিচ্ছে না। তাদের দাবি জুলাই সদন বাস্তবায়নের পর এই পদে আসবে তারা।

সাংবিধানিক প্রক্রিয়া

সংবিধান অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকে সদস্যদের মধ্য থেকে একজন স্পিকার ও একজন ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন। কোনো পদ শূন্য হলে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তা পূরণ করতে হয়। প্রস্তাব উত্থাপন, সমর্থন ও ভোটের মাধ্যমে নির্বাচন সম্পন্ন হয়। নির্বাচিতদের শপথ পাঠ করান রাষ্ট্রপতি।

রাষ্ট্রপতিও সংসদ সদস্যদের ভোটে পরোক্ষভাবে নির্বাচিত হন। ফলে সংসদে যে দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকে, তাদের সিদ্ধান্তই এ ক্ষেত্রে নির্ধারক হয়ে ওঠে।

দলীয় নেতারা বলছেন, আপাতত সংসদ অধিবেশনকে সামনে রেখে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনই অগ্রাধিকার পাচ্ছে। রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে তাৎক্ষণিক কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা কম। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের বৈঠকে।

রাষ্ট্র ও সংসদের গুরুত্বপূর্ণ দুই পদে শেষ পর্যন্ত কারা আসছেন-এ প্রশ্নে রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহল বাড়ছে। অভিজ্ঞতা, জ্যেষ্ঠতা ও কৌশলগত বিবেচনা-সব মিলিয়ে সিদ্ধান্তের দিকেই এখন নজর সবার।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন