বুধবার
০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বুধবার
০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইরাকে ধর্ষণচেষ্টার পর গলা কেটে পাহাড়ে ফেলে রেখে যায় প্রতিবেশী

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০২৬, ০৩:০৮ এএম
ইরা হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেফতার
expand
ইরা হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেফতার

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু জান্নাতুল নাইমা ইরা হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ধারা ৭/৩০ তৎসহ ১০৯/৩২৬/৩০৭/৩৪ পেনাল কোডে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত ০১/০৩/২০২৬ খ্রি. তারিখ বেলা আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে সীতাকুণ্ড পাহাড় এলাকায় রাস্তা নির্মাণ কাজে নিয়োজিত এক শ্রমিক থানায় ফোন করে জানায়, প্রায় ৭ বছর বয়সী একটি মেয়ে গলা কাটা অবস্থায় বনের ভিতরে পড়ে আছে। খবর পেয়ে থানা পুলিশের একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ভিকটিম জান্নাতুল নাইমা ইরা (০৭) কে উদ্ধার করে প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরবর্তীতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ প্রেরণ করা হয়।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ ০৩/০৩/২০২৬ খ্রি. তারিখ ভোর আনুমানিক ৫:০০ টায় ইরা মৃত্যুবরণ করে।ঘটনার পরপরই পুলিশ ভিকটিমের বাড়ি কুমিরা থেকে সীতাকুণ্ড পাহাড় পর্যন্ত রাস্তায় স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে এবং প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে মূল অভিযুক্ত বাবু শেখ (৪৫), পিতা-মৃত হাদেম শেখ, মাতা-মৃত মোছাঃ খাজেরা বেগম, সাং-মধ্যম পুলুপাড়া, পোস্ট-বাগদা, থানা-গোবিন্দগঞ্জ, জেলা-গাইবান্ধাকে শনাক্ত করে। পরে আজ দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে কুমিরা কাজীপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত বাবু শেখ জানায়, ভিকটিমের বাবা মনির হোসেনের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ ছিল। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। সেই বিরোধের জের ধরে প্রতিশোধ নিতে পরিকল্পিতভাবে ইরাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয় সে।

পুলিশের তথ্যমতে, ঘটনার দিন সকাল আনুমানিক ৯টা ৩০ মিনিটে অভিযুক্ত বাবু শেখ ইরাকে চকলেট কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। তারা প্রথমে কুমিরা থেকে বাসযোগে সীতাকুণ্ড বাসস্ট্যান্ডে আসে। পরে পায়ে হেঁটে পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় শিশুটি চিৎকার করে বিষয়টি মানুষকে জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে অভিযুক্ত তার কাছে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে ইরার গলায় আঘাত করে এবং তাকে মৃত ভেবে ঘটনাস্থলেই ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে গুরুতর আহত অবস্থায় ইরা নির্মাণাধীন রাস্তার দিকে উঠে এলে শ্রমিকরা তাকে দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে এবং বেলা আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে থানায় খবর দেয়।

গ্রেফতারকৃত আসামির দেখানো মতে সীতাকুণ্ড পাহাড়ের ঘটনাস্থল থেকে ভিকটিমের রক্তমাখা সেলোয়ারসহ অন্যান্য আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত বাবু শেখকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন