বুধবার
০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বুধবার
০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পুলিশকে আগের পোশাকে ফেরাতে লাগবে ২০০ কোটি টাকা

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০২৬, ১০:০৫ এএম
পুলিশের আগের পোশাক (বাঁয়ে), নতুন পোশাক (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত
expand
পুলিশের আগের পোশাক (বাঁয়ে), নতুন পোশাক (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ পুলিশের ইউনিফর্ম পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে বাহিনীর ভেতরে ও বাইরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় চালু হওয়া ‘আয়রন গ্রে’ শার্ট ও ‘চকলেট ব্রাউন’ প্যান্ট নিয়ে মাঠপর্যায়ের অনেক সদস্যের মধ্যে অনীহা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এর প্রেক্ষিতে আবারও আগের নীল রঙের প্রচলিত পোশাকে ফেরার দাবি জোরালো হচ্ছে।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ইউনিফর্ম পরিবর্তন বিষয়ে মতামত জানতে চেয়ে দেশের বিভিন্ন জেলা ও ইউনিটে চিঠি পাঠানো হয়েছে। অনেক জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) তাদের নিজ নিজ কল্যাণ সভায় সদস্যদের মতামত নিয়ে সদর দপ্তরে পাঠিয়েছেন। একাধিক ইউনিট প্রধান জানিয়েছেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সদস্যরা পুরোনো নীল পোশাকে ফেরার পক্ষে মত দিয়েছেন।

এদিকে ইউনিফর্ম পরিবর্তন প্রশ্নে আর্থিক হিসাবও সামনে এসেছে। নতুন রঙের পোশাক চালুর জন্য ইতোমধ্যে প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়। এখন যদি আবার আগের পোশাকে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়, তবে নতুন করে আরও বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দের প্রয়োজন হতে পারে। সব মিলিয়ে ব্যয়ের পরিমাণ ২০০ কোটি টাকার বেশি দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বর্তমানে পুলিশের সদস্যসংখ্যা প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার। চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হলে এ সংখ্যা বেড়ে প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজারে পৌঁছাতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, একজন সদস্যের এক সেট ইউনিফর্ম তৈরিতে গড়ে প্রায় ৪ গজ কাপড় লাগে। সে হিসেবে এক সেট পোশাকের জন্য প্রয়োজন হবে প্রায় ৯ লাখ ২০ হাজার গজ কাপড়। বছরে দুই সেট হিসেবে এই পরিমাণ দাঁড়াবে ১৮ লাখ ৪০ হাজার গজে। প্রতি সেটের খরচ গড়ে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা ধরলে পুরো বাহিনীর জন্য নতুন করে ইউনিফর্ম সরবরাহে ১০০ থেকে ১৩০ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে।

নারী পুলিশ সদস্যদের ইউনিফর্ম তৈরিতে অতিরিক্ত ব্যয় রয়েছে। বর্তমানে বাহিনীতে নারী সদস্য আছেন প্রায় ১৭ হাজারের বেশি। তাদের জন্য আলাদা নকশা ও কাটিংয়ের পোশাক প্রস্তুতে অতিরিক্ত ৫ থেকে ৭ কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে বলে হিসাব করা হয়েছে। ভবিষ্যতে নারী সদস্যসংখ্যা বাড়লে ব্যয়ও বাড়বে।

এ বিষয়ে সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (স্বরাষ্ট্র) খোদা বকশ চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, পোশাক পরিবর্তন একটি নীতিগত সিদ্ধান্তের অংশ ছিল এবং ইউনিফর্ম নির্দিষ্ট সময় পরপর পরিবর্তন হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। তবে নতুন করে আবার পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

যশোর জেলার পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, তার জেলার কল্যাণ সভায় অংশ নেওয়া সদস্যরা পুরোনো পোশাকে ফেরার পক্ষে মত দিয়েছেন। তিনি বলেন, নতুন পোশাক এখনো জেলায় সরবরাহ করা হয়নি এবং সদস্যদের একটি বড় অংশ পুরোনো ইউনিফর্মকে বেশি আরামদায়ক ও পরিচিত মনে করছেন।

অন্যদিকে সিরাজগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু জানান, তার জেলার অধিকাংশ সদস্য আগের পোশাকে ফেরার পক্ষে মত দিয়েছেন। তিনি বলেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় সবার পক্ষে খোলামেলা মতামত দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, ইউনিফর্ম ইস্যুটি এখন কেবল রং বা নকশার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাহিনীর মনোবল, আর্থিক ব্যয় এবং নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়ও। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী হবে, তা নির্ভর করছে সরকারের নীতিগত অবস্থান ও আর্থিক সক্ষমতার ওপর।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন