

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতার জেরে ইরানকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। উৎপাদন ও রপ্তানি বিঘ্নিত হওয়ার শঙ্কায় অপরিশোধিত তেলের দাম একদিনেই ডলারের বেশি বেড়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার লেনদেনে Brent Crude–এর দাম ব্যারেলপ্রতি ১ ডলার ১১ সেন্ট বা প্রায় ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৮২ দশমিক ৫৩ ডলারে। চলতি বছরের জানুয়ারির পর এটি সর্বোচ্চ অবস্থান। একই সময়ে West Texas Intermediate (ডব্লিউটিআই) ব্যারেলপ্রতি ৭৯ সেন্ট বেড়ে ৭৫ দশমিক ৩৭ ডলারে পৌঁছায়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে একাধিক স্থাপনায় হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে—এমন আশঙ্কা তৈরি হয়। ফলে বৈশ্বিক সরবরাহে ঘাটতির সম্ভাবনা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ে, যার সরাসরি প্রতিফলন দেখা যায় দামে।
এদিকে ইরাকেও উৎপাদন কমার তথ্য পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মজুত ও রপ্তানি রুটে সীমাবদ্ধতার কারণে দেশটি দৈনিক প্রায় ১৫ লাখ ব্যারেল উৎপাদন কমিয়েছে, যা তাদের মোট উৎপাদনের বড় অংশ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে উৎপাদন আরও কমতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে Strait of Hormuz। এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়। সাম্প্রতিক ট্যাংকারে হামলার ঘটনার পর কয়েক দিন ধরে চলাচল বিঘ্নিত থাকায় সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। এতে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জ্বালানি ব্যয় বাড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
মন্তব্য করুন
