বৃহস্পতিবার
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জনগণের ভোটে একটি গণতান্ত্রিক সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

এনপিবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:৫৮ পিএম
বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
expand
বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রধামন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত একটি গণতান্ত্রিক সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছে।

জনগণের প্রতি জবাবদিহিমূলক এ সরকার দেশটাকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে চায়। অমর একুশে বইমেলা শুধু বই বেচাকেনার মেলা নয় বরং মেলা হয়ে উঠুক শিক্ষা এবং সাংস্কৃতিক বিকাশের সূতিকাগার।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে একুশে বই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আগামীতে 'অমর একুশে বইমেলা' 'অমর একুশে আন্তর্জাতিক বইমেলা'য় হিসেবে বিবেচনার প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কারণ 'অমর একুশে আন্তর্জাতিক বইমেলা' অনুষ্ঠিত হলে বিশ্ব সাহিত্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ হবে বলে তার বিশ্বাস। পাশাপাশি বহু ভাষা এবং সংস্কৃতি শেখা-জানা এবং বোঝার দিকে নাগরিকদের আগ্রহী করে তুলতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রধামন্ত্রীর উদ্বোধন ঘোষণার পরপরই সর্বসাধারণের জন্য মেলার দ্বার উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এবারের বইমেলার প্রতিপাদ্য ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ'। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। সঙ্গে ছিলেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানসহ মন্ত্রিসভার সদস্যরা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান গ্লোবাল ভিলেজের এই সময়ে মাতৃভাষা ছাড়াও আরও একাধিক ভাষার সঙ্গে পরিচিত হওয়া জরুরি। বর্তমানের প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সমৃদ্ধি এবং সম্মানের সঙ্গে টিকে থাকতে হলে জ্ঞান এবং মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র এবং সমাজ প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। এ জন্য জ্ঞানে-বিজ্ঞানে-প্রযুক্তিতে মেধায় নিজেদেরকে সমৃদ্ধ হতে হবে। একই সঙ্গে বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের অফিসিয়াল ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ের জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বের অনেক দেশেই বইমেলার আয়োজন করা হয়। তবে আমাদের বইমেলা অন্য দেশের বইমেলার মতো নয়। বইমেলা আমাদের মাতৃভাষার ভাষার অধিকার আদায় এবং বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার স্মারক হিসেবে চিহ্নিত। তবে প্রতি বছর মেলার আকার আয়তন বাড়লেও সেই হারে গবেষণাধর্মী বই প্রকাশিত হচ্ছে কীনা কিংবা মানুষের বই পড়ার অভ্যাস বাড়ছে কিনা এই বিষয়গুলো নিয়েও বর্তমানে চিন্তা ভাবনার অবকাশ রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বইমেলা শুধু একটি নির্দিষ্ট মাসে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সীমাবদ্ধ না রেখে সারা বছর দেশের সব বিভাগ, জেলা, উপজেলায়ও আয়োজিত হতে পারে। বই প্রকাশকগণও এ নিয়ে উদ্যোগী ভূমিকা রাখতে পারেন। এক্ষেত্রে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে তথ্য-প্রযুক্তি মানুষের বই পড়ার অভ্যাসে প্রধান বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ইন্টারনেট আসক্তি তরুণ প্রজন্মকে বই বিমুখ করে তুলছে। ইন্টারনেটেও অবশ্যই বই পড়া যায়। তবে গবেষকরা বলছেন, বইয়ের পাতায় কালো অক্ষরে লেখা বই পড়ার মধ্যে জ্ঞানের গভীরতা উপভোগ করা যায়। কিন্তু দিনের পর দিন কম্পিউটারের মনিটরে ডুবে থেকে জ্ঞানার্জন সম্ভব হলেও শরীর এবং মনোজগতে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার প্রভাবও কম নয়।

অমর একুশে বইমেলা কেন্দ্র করে বাংলা একাডেমি মাসব্যাপী আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন, সংগীত ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতার যে আয়োজন করে তা নতুন প্রজন্মের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করে দেয়।এভাবেই বইমেলা হয়ে উঠুক আমাদের সকলের মিলনমেলা, প্রাণের মেলা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, জাতির মননের প্রতীক বাংলা একাডেমি আমাদের তরুণ-তরুণীদের মেধা ও মনন বিকাশের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন মেয়াদি গবেষণাবৃত্তি, তরুণ লেখক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং আন্তর্জাতিক সেমিনার আয়োজন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X