

সংগঠনে যে ইনোভেশন আনা যায় তার একটি ব্যতিক্রমধর্মী উদাহরণ সৃষ্টি করেছে '২২তম বিসিএস ফোরাম'
নবনির্বাচিত 'কার্যনির্বাহী পর্ষদ (২০২৫-২০২৭)'-এর আনুষ্ঠানিক পথ চলা উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে মনে রাখার মত একটি 'অভিষেক'।
ষড়ঋতুর সাথে মিল রেখে এ অনুষ্ঠানের নামকরণ করা হয়েছে 'শরৎ সন্ধ্যা' যা আমন্ত্রিত অতিথিসহ উপস্থিত অংশগ্রহনকারী সকলের নিকট ছিলো বেশ উপভোগ্য।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখ রাজধানীর অদুরে বিরুলিয়ার 'তুরাগ নদীর' তীরে অবস্থিত 'ঢাকা বোট ক্লাব'-এ পড়ন্ত বিকেলে সূর্যের আলো-আধারী খেলায় একরাশ উচ্ছ্বাস এবং আনন্দ নিয়ে মেতে উঠেছিলো ২২তম ব্যাচের ২৬ ক্যাডারের বন্ধুরা।
দীর্ঘ দিন পর সহকর্মী বন্ধুদের একসাথে পেয়ে যার আনন্দের কোনো সীমা ছিলো না। সবশেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছিলো অনেক উপভোগ্য।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সচিব (অবঃ), 'অফিসার্স ক্লাব, ঢাকা'-এর সাধারণ সম্পাদক ও 'বৈষম্যবিরোধী কর্মচারী ঐক্য ফোরাম'-এর সভাপতি এ. বি. এম, আব্দুস সাত্তার।
বিশেষ অতিথি ছিলেন, ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী'র উপস্থিতি অনুষ্ঠানের সৌন্দর্য ও কলেবর অনেক বৃদ্ধি করেছে।
পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন সংগঠনের সভাপতি এ কে এম হাফিজুল্লাহ খান লিটন (যুগ্ম সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগ)।
অনুষ্ঠানে 'জুলাই গণঅভ্যুত্থান'-এর শহীদদের স্মরণে নীরবতা পালন
অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের পর 'জুলাই গণঅভ্যুত্থান'-এর শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে ০১ (এক) মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং পরবর্তীতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। জাতীয় সংগীত পরিবেশনকালে উপস্থিত সকলে দাঁড়িয়ে সম্মান জানান।
Rainbow Nation গঠনে '২২তম বিসিএস ফোরাম'
অভিষেক অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ইভেন্ট ছিলো গতানুগতিক ধারার বাহিরে গিয়ে আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতিতে বৃহৎ চারটি ক্যাডারের বন্ধুদের প্রতিনিধিদের 'প্যানেল ডিসকাশন'।
এটি সিভিল সার্ভিসের কোনো সংগঠনের ইতিপূর্বে কোনো ইভেন্ট ছিলো কীনা তা আমার জানা নেই। তবে ২২তম বিসিএস ফোরাম কর্তৃক একটি একীভূত, গতিশীল এবং বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস গঠনে Rainbow Nation গড়ার প্রতিশ্রুতি ছিলো অনুপ্রেরণামূলক।
এ প্রতিশ্রুতি 'কৃত্রিম সকল প্রাচীর ভেঙে আন্ত:ক্যাডার, নন-ক্যাডার, জুনিয়র ও সিনিয়রদের মধ্যে ঐক্যের মনোভাব নিযে এগিযে যাবে' এবং 'ঐক্যই আমাদের শক্তি, ঐক্যই আমাদের অস্তিত্ব' এ মন্ত্রটি গ্রহণ করা হলে পুরো সিভিল সার্ভিসের জন্য একটি শক্তিশালী এবং দৃষ্টান্তমূলক মডেল হিসেবে পরিচিতি পাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
এছাড়া, সুখী, সমৃদ্ধ এবং দুর্নীতিমুক্ত উন্নত বাংলাদেশ গড়তে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও ঐক্যের প্রযোজন। '২২তম বিসিএস ফোরাম'-এর এই অনন্য উদ্যোগ, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং এত উচ্চ মানের একটি দৃষ্টিভঙ্গি নির্ধারণ করার জন্য সাধুবাদ জানাই।
Rainbow Nation গঠনে সিভিল সার্ভিসের অফিসারদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
নুতুন কনসেপ্ট হিসেবে Rainbow Nation গঠনের ধারনাটি সকলের সামনে নিয়ে আসা ছিলো সময়োপযোগী একটি পদক্ষেপ।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি এবং প্যানেল আলোচকদের আলোচনা হতে 'অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সহযোগিতা'; সংস্কৃতি, জাতিসত্তা ও গোষ্ঠীর প্রতি সংবেদনশীল এবং বৈচিত্র্যকে সম্মান জানাতে 'বৈচিত্র্য ও সমতার প্রচার'; সিভিল সার্ভিসের সকল স্তরে দেশের সব জনগোষ্ঠীর ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতকরণ ও এই বিষয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠাকরণ; পেশাদারিত্ব, সততা ও নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা ও তা পালনে অফিসারদের উৎসাহিত করা; সিভিল সার্ভিসে নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করা যাতে সেবাদানে জাতি, ধর্ম বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে প্রভাবিত না হয়; বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং জাতিগত গোষ্ঠীর সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে তাদের চাহিদা ও সমস্যা অনুধাবন করে সেই অনুযায়ী সমাধানমূলক উদ্যোগ গ্রহণ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যকে তুলে ধরে এবং মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সংহতি বাড়াতে সাহায্য করে।
সংক্ষেপে বলা যায়, সিভিল সার্ভিসের অফিসারদের সংগঠনগুলো একটি রেইনবো জাতি গঠনে সেবাকে বৈষম্যমুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সকলের জন্য সমান সুযোগ-সৃষ্টিকারী একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে।
নতুন নির্বাচিত কমিটির সম্মানিত সভাপতি এ কে এম হাফিজুল্লাহ খান লিটন (যুগ্ম সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগ), সাধারণ সম্পাদক, জনাব মোহাম্মদ আসফিকুজ্জামান আখতার (অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ) এবং নির্বাহী কমিটির সকল অন্যান্য সম্মানিত সদস্যদের প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন জ্ঞাপন করছি। নতুন কমিটির সফলতা এবং মসৃন পথযাত্রার শুভাকামনা জানাই। পুরো ব্যাচকে তাদের লক্ষ্য অর্জনে সাফল্যের জন্য শুভ কামনা জানাই।
অনুষ্ঠান সফল করার নেপথ্যের কারিগরদের ধন্যবাদ
২২তম বিসিএস ফোরাম-এর নান্দনিক 'কার্যনির্বাহী পর্ষদ (২০২৫-২০২৭)-এর অভিষেক' এবং 'শরৎ সন্ধ্যা' অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন সফল করার জন্য দীর্ঘ ০২ (দুই) মাস ধরে যে সকল সদস্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম মো. সামছুল ইসলাম মেহেদী (যুগ্মসচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগ), এ কে এম হাফিজুল্লাহ খান লিটন (যুগ্ম সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগ), মোহাম্মদ আসফিকুজ্জামান আখতার (অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ), মো. গোলাম আজম (কোষাধ্যক্ষ), মীর্জা মোঃ আলী রেজা, জনাব মোঃ নাসিরুল ইসলাম শামীম।
এছাড়া ফোকাল পারসন হিসেবে কাজ করেছেন, পুলিশ ক্যাডারের মো. সায়ফুজ্জামান ফারুকী; সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের মো. শাহজাহান, মোহাম্মদ আলফাজ উদ্দিন, জাকির হোসেন, ড. মোঃ মাসুদ রানা খান; স্বাস্থ্য ক্যাডারের ডা. আয়শা আক্তার, ডা. স্বপন কুমার মন্ডল; কৃষি ক্যাডারের ড. মোস্তফা এমরান হোসাইন; কাস্টমস, এক্সাইজ, ভ্যাট ক্যাডারের মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান, জনাব মিয়া মোঃ আবু ওবায়দা; কর ক্যাভারের জনাব নাইমুর রসুল, জনাব মোঃ আব্দুস সালাম, পরিবার পরিকল্পনা ক্যাডারের জনাব মতিউর রহমান; মৎস্য ক্যাডারের জনাব মো: আবুল কালাম আজাদ: খাদ্য ক্যাভারের জনাব আব্দুস সালাম; বন ক্যাডারের জনাব মুহাম্মদ আবদুল আউয়াল সরকার; তথ্য ক্যাডারের জনাব এ. বি. এম. মাহবুবুর রহমান, জনাব মোঃ মঈন উদ্দিন; জুডিসিয়াল ক্যাডারের এ জে এম মাসুদ; ডাক ক্যাডারের মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম; টেলিকম ক্যাডারের জনাব এস ওয়াজেদ আলী; গণপূর্ত ক্যাডারের জনাব এ. জেড, এম, সফিউল হান্নান; রেলওয়ে ক্যাডারের জনাব সাদরুল হক; সড়ক ও জনপথ ক্যাডারের জনাব মোহাম্মদ জিয়াউল হায়দার, বাণিজ্য ক্যাডারের নন্দ কুমার বণিক, প্রশাসন ক্যাডারের এ. এফ, এম, এহতেশামুল হক; এরাদুল হক; মোঃ আব্দুর রহিম; গোলাম মোহাম্মদ ভুঁইয়া; মুহাম্মদ আব্দুস সালাম; মোঃ গাউছুল আজম; জনাব আবদুল হাই; খন্দকার নূরুল হক; জনাব মোঃ সাজেদুর রহমানসহ আরও অনেকে।
মন্তব্য করুন