

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাত পোহালেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ১২ ফেব্রুয়ারির এই ভোটের ফলাফলেই নির্ধারণ করা হবে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের চালিকাশক্তি। এবার সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হচ্ছে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে 'গণভোট'। এজন্য এবার এক সঙ্গে দুই ভোট দিবেন ভোটাররা।
সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে সারাদেশে ২৯৯ সংসদীয় আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে, প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
ইসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার প্রায় ৬ কোটি ৪৮ লাখ, নারী ভোটার প্রায় ৬ কোটি ২৮ লাখ এবং হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন। মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এবারের নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ২৮ জন। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। নারী প্রার্থী রয়েছেন ৮৩ জন।
ভোট দিতে যাওয়ার আগে ভোটারদের নিজ নিজ ভোটকেন্দ্র এবং ভোটার তালিকার ক্রমিক নম্বর জেনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ জন্য নির্বাচন কমিশনের ‘স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি’ অ্যাপ, হটলাইন ১০৫, এসএমএস সেবা কিংবা ইসির ওয়েবসাইট ব্যবহার করা যাবে।
ভোটের আগের দিন অর্থাৎ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে শান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ ভোটের পরিবেশ রক্ষার্থে সকলে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
তিনি বলেছেন, এই নির্বাচনে ভোটদান আমাদের শুধু নাগরিক অধিকারই নয়; বরং দায়িত্ব। আমি আশাকরি আপনারা সকলে সচেতনভাবে এই দায়িত্ব পালন করবেন। রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও ভোটারদের প্রতি আহবান; শান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ রক্ষার্থে সকলে দায়িত্বশীল ও যত্নবান হবেন।
ভিন্নমত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একটি স্বাভাবিক বিষয় উল্লেখ করে ভাষণে সিইসি বলেন, এ বিষয়টি স্মরণে রেখে আপনারা উৎসবমূখর পরিবেশ নিশ্চিত করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটকেন্দ্রে আসবেন, পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বভাবিক পরিণতি হিসেবে জয় পরাজয়কে মেনে নেবেন।
নির্বাচন পর্যবেক্ষণে থাকবেন ৪৫ হাজার ৩৩০ জন দেশীয় এবং প্রায় ৩৫০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক। এ ছাড়া প্রায় ৯ হাজার ৭০০ জন সাংবাদিক নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য নিবন্ধিত হয়েছেন।
নিরাপত্তা নিশ্চিতে সারাদেশে মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ৯ লাখ ৫৮ হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। দায়িত্ব পালন করছেন প্রায় ২ হাজার ১০০ জন নির্বাহী ও ৬৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট। প্রথমবারের মতো নির্বাচনে ড্রোন, বডি ওর্ন ক্যামেরা এবং ব্যাপকভাবে সিসিটিভি ব্যবহৃত হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের দাবি, ৯০ শতাংশের বেশি কেন্দ্রে সিসিটিভি নজরদারি নিশ্চিত করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন
