বুধবার
১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বুধবার
১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিশ্রুতির বন্যা, কার ‘প্ল্যান’ কি 

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:২০ এএম
এনপিবি গ্রাফিক্স
expand
এনপিবি গ্রাফিক্স

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর ঘোষিত ইশতেহারে প্রতিশ্রুতির ছড়াছড়ি লক্ষ্যণীয়। বিএনপির ইশতেহারে ৯টি অগ্রাধিকার ও ৫১টি পরিকল্পনা রয়েছে, জামায়াতের ২৬টি অগ্রাধিকার ও ৪১টি প্রতিশ্রুতি, আর এনসিপির ১২টি অগ্রাধিকার ও ৩৬টি প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া প্রতিটি দলের ইশতেহারে ছোট ছোট শতাধিক অঙ্গীকারও আছে।

কমিশন ও মানবাধিকার: বিএনপি ও জামায়াত ক্ষমতায় গেলে ‘ট্রুথ অ্যান্ড হিলিং কমিশন’, এনসিপি ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন’ গঠনের অঙ্গীকার করেছে। এর লক্ষ্য হলো মানবাধিকার লঙ্ঘন, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার সত্য উদঘাটন।

স্বাস্থ্য ও শিক্ষা: তিন দলের ইশতেহারে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা, ঔষধের দাম কমানো ও শিক্ষার্থীদের ভাতা-বৃত্তি প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত। বিএনপি শিক্ষিত বেকারদের মাসিক ভাতা, জামায়াত দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাসে তিন হাজার টাকা ভাতা ও ঋণ, এনসিপি মাসে পাঁচ হাজার টাকা ভাতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

কর্মসংস্থান ও অর্থনীতি: ইশতেহারে তিন দলই ক্ষমতায় গেলে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এনসিপি বছরে ১০০ দিনের কাজের নিশ্চয়তা, জামায়াত তরুণদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি কারিগরি ও ভাষা দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ সহায়তা এবং নদী-খাল খনন, বৃক্ষরোপণ ও ধর্মীয় নেতাদের সম্মানী প্রদানের অঙ্গীকার করেছে।

অর্থনীতিতে বিএনপি ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য রাখছে। আর জামায়াত ২০২৪ সালে দুই ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কর-জিডিপি অনুপাত, কর সংস্কার এবং কর হ্রাসসহ বিভিন্ন আর্থিক অঙ্গীকারও করা হয়েছে।

পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা: বিএনপি পররাষ্ট্রনীতিতে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ কৌশল নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। জামায়াত ‘সমতা ও সমমর্যাদা’ এবং এনসিপি দলের স্বার্থের ঊর্ধ্বে নীতি গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে।

প্রতিরক্ষা খাতে তিন দলই সমরাস্ত্র উৎপাদন ও প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছে। জামায়াত ও এনসিপি তরুণদের বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা রেখেছে; বিএনপি তা অন্তর্ভুক্ত করেনি।

জুলাই সনদ ও সংলাপ: বিএনপি জুলাই সনদ অনুযায়ী ‘নোট অব ডিসেন্ট’ যুক্ত করে উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করেছে, জামায়াত ও এনসিপি পূর্ণ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার দিয়েছে। এছাড়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার, সরকারি কর্মকমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশনের নিয়োগ ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নিয়োগে পার্থক্য রয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X