শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডাকসু নির্বাচনে বামপন্থীদের সম্ভাবনা: ইতিহাস কি আবারও ফিরে আসবে?

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৮:৫০ এএম আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৮:৫৯ এএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভবন
expand
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভবন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে এবারের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোর জোট প্রতিরোধ পর্ষদ। এই প্যানেলে সর্বোচ্চ ১২ জন নারী প্রার্থী রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী থেকে চারজন এবং একজন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীও অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। সব মিলিয়ে ২৮টি পদের মধ্যে ১৬টিতেই নারী, সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব রয়েছে।

জোটটির মূল স্লোগান— “সমতায়-প্রতিরোধে নিরাপদ ক্যাম্পাস”। তাদের ধারণা, বৈচিত্র্যময় প্রার্থী, সামাজিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা এবং পরিচিত মুখগুলো নির্বাচনে সাড়া ফেলতে সক্ষম হবে। প্রশ্ন রয়ে যায়—বামপন্থীরা কি অতীতের মতো সফল হতে পারবে?

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে স্বাধীনতার আগে ও পরেও বামপন্থীরা উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। তখন ছাত্র ইউনিয়ন এবং ছাত্রলীগ ছিল প্রধান দুই শক্তি। পরবর্তীতে ছাত্রলীগ ভেঙে আওয়ামীপন্থী ছাত্রলীগ (বর্তমানে নিষিদ্ধ) ও জাসদ ছাত্রলীগ নামে দুটি সংগঠন হয়।

১৯৬৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ১৩ বার ডাকসু ও হল সংসদের ভোট হয়েছে। এর মধ্যে ছাত্র ইউনিয়নের প্রার্থীরা চারবার ভিপি ও চারবার জিএস পদে জয়ী হয়েছেন। জাসদ ছাত্রলীগ দু’বার এবং বাসদ ছাত্রলীগ একবার ভিপি পদে জিতেছে। একইভাবে জিএস পদে জাসদ ছাত্রলীগ একবার ও বাসদ ছাত্রলীগ দু’বার বিজয়ী হয়েছিল।

তবে সর্বশেষ ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে বামপন্থীরা প্রত্যাশিত ফল পায়নি। নির্বাচনটি নানা বিতর্কে জর্জরিত হয়েছিল।

প্রতিরোধ পর্ষদ ও তাদের প্রার্থী

বর্তমানে ক্যাম্পাসে সক্রিয় বামপন্থী সংগঠন ১০টি। এর মধ্যে সাতটি একত্র হয়ে প্রতিরোধ পর্ষদ গঠন করেছে। সংগঠনগুলো হলো—ছাত্র ইউনিয়ন (তামজিদ-শিমুল),সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট (মার্ক্সবাদী), বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (ইউপিডিএফ), ছাত্র ফেডারেশন (জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল), বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলন

অন্যদিকে ছাত্র ইউনিয়ন (মাহির-বাহাউদ্দিন), সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট (বাসদ) ও বিসিএল (বাংলাদেশ জাসদ) মিলে গঠন করেছে ‘অপরাজেয় ৭১ ও অদম্য ২৪’ নামের আরেকটি প্যানেল। যদিও আলোচনায় এগিয়ে আছে প্রতিরোধ পর্ষদ।

প্রতিরোধ পর্ষদের প্রধান মুখগুলো হলো: ভিপি পদে: শেখ তাসনিম আফরোজ (ইমি) – যিনি সরাসরি কোনো সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নন, তবে ২০১৯ সালে হল সংসদের ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলেন।

জিএস পদে: মেঘমল্লার বসু – প্রতিবাদী ভূমিকা ও বিতর্কে সক্রিয় উপস্থিতির কারণে ক্যাম্পাসে সুপরিচিত। এজিএস পদে: জাবির আহমেদ জুবেল – বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক ও আন্দোলনকারী মুখ।

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন মোজাম্মেল হক (সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট) এবং নূজিয়া হাসিন (বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী)।

মূল শক্তি ও সীমাবদ্ধতা: প্রতিরোধ পর্ষদের প্রার্থীরা মনে করেন, তাদের শক্তি হলো— ছাত্রলীগের সহিংসতা ও প্রশাসনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রতিবাদ। মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পক্ষে অবস্থান। নারী ও সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি থেকে মুক্ত থাকা।

তবে চ্যালেঞ্জও রয়েছে:

সীমিত সাংগঠনিক সক্ষমতা, নির্বাচনী প্রচারে অর্থ খরচ করতে না পারা ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা কম থাকায় “ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং”-এর আশঙ্কা

প্রতিবাদী অবস্থানই মূল ভরসা

প্রার্থীরা ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে নিজেদের ওপর সংঘটিত হামলার ছবি প্রকাশ করছেন। জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে ভূমিকা ও ছাত্রলীগের নির্যাতনের বিরুদ্ধে লড়াইকে তারা ভোটারদের সামনে তুলে ধরছেন। তাদের দাবি, ভোটের ফলাফল যাই হোক, প্রতিরোধের অবস্থান অব্যাহত থাকবে।

সামনে নির্বাচন

আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ডাকসু ও হল সংসদের ভোট অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিরোধ পর্ষদের নেতারা বলছেন, এই নির্বাচন তাদের জন্য শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, বরং দীর্ঘ দিনের সংগ্রামের ধারাবাহিকতা। জয় বা পরাজয় যাই হোক, ক্যাম্পাসে তাদের লড়াই চলবেই।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন