সোমবার
১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভানুয়াতুর নাগরিক বিএনপির এম এ কাইয়ুম!

সাইফুল্লাহ আমান
প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:১০ পিএম
ঢাকা-১১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম এ কাইয়ুম ও তার দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াতুর পাসপোর্ট
expand
ঢাকা-১১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম এ কাইয়ুম ও তার দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াতুর পাসপোর্ট
  • মালয়েশিয়াতে অবৈধ অবস্থানের অভিযোগে আটক হন ২০২৪ সালে
  • স্ত্রীর দাবি ‘সেকেন্ড হোম’ সুবিধায় ছিলেন মালয়েশিয়াতে
  • গণঅভ্যূত্থানের পরে নিয়েছেন ভানুয়াতুর পাসপোর্ট

নির্বাচনের আর বাকি ২৪ দিন। এরমধ্যে একের পর এক অভিযোগে জেরবার বিএনপি প্রার্থীরা। এবার দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ উঠলো ঢাকা-১১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম এ কাইয়ুমের বিরুদ্ধে। দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াতুর পাসপোর্ট ব্যবহার করেন এম এ কাইয়ুম বলে অভিযোগ উঠেছে।

এর আগে ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে মালয়েশিয়াতে অবৈধভাবে বসবাসের অভিযোগে গ্রেফতার হন। তখন তার স্ত্রীর দাবি অনুযায়ী কাইয়ুম ‘সেকেন্ড হোম’ ক্যাটেগরিতে মালয়েশিয়ায় ছিলেন। কিন্তু তিনি দ্বৈত নাগরিকত্ব কিংবা সেকেন্ড হোম বিষয়ে কোনো তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করেননি। যা নির্বাচনী আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী অন্য কোনো দেশের নাগরিক হলে কেউ সংসদ নির্বাচন করতে পারবেন না। সংবিধানের পঞ্চম ভাগের আইনসভার ১ম পরিচ্ছেদে এ কথা বলা আছে। এই আইন অনুযায়ী কোনো দ্বৈত নাগরিক নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্য হবেন না। কেউ যদি নাগরিকত্ব প্রত্যাহারও করে তবুও সে নির্বাচন করতে অযোগ্য বিবেচিত হবেন সংবিধান মতে।

এমন একটা সময়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলো যখন নির্বাচন দরজায় কড়া নাড়ছে। এখন প্রার্থীদের হলফনামা যাচাই বাছাই করছে নির্বাচন কমিশন। বাংলাদেশের আইনে দ্বৈত নাগরিকত্বের সুযোগ থাকলেও নির্বাচন করার সুযোগ নেই এমন সুবিধাভোগীদের। এবারের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীরা সবচেয়ে বেশি নাস্তানাবুদ হচ্ছেন এই অভিযোগেই। ইতিমধ্যে বেশকিছু প্রার্থীর প্রার্থীতা বাতিল হয়েছে এই অভিযোগে।

এম এ কাইয়ুম ঢাকা-১১ আসনের বিএনপির প্রার্থী। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ক সম্পাদক। ভানুয়াতুর পাসপোর্টের একটি কপি প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে তিনি ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পাসপোর্ট গ্রহণ করেছেন। দশ বছর মেয়াদী ভানুয়াতুর পাসপোর্ট নাম্বার আরভি ০১৮**২৬ (জঠ ০১৮**৬)। ব্যক্তিগত ধরণের পাসপোর্টটিতে জন্মস্থান হিসেবে ঢাকা এবং জন্ম তারিখ ১৯৬৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি তারিখে যা তার নির্বাচনী হলফনামার সঙ্গেও মিলে যায়।

আসন্ন ত্রয়োদশ নির্বাচনে ঢাকা-১১ নির্বাচনী আসন থেকে প্রভাবশালী কয়েকজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরমধ্যে রয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। উল্লেখযোগ্য প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের শেখ মোঃ ফজলে বারী মাসউদ। এছাড়া আরো ৬ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে মাঠে ছিলেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান। জামায়াত ও এনসিপির জোট হওয়ায় প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেন আতিকুর রহমান। এতে জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন নাহিদ ইসলাম।

এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় এম এ কাইয়ুমের সঙ্গে। তার ব্যক্তিগত নাম্বারে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে তার হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ করা হলেও কোনো উত্তর দেননি।

এদিকে একই অভিযোগের কারণে প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে কুমিল্লা-১০ আসনের এমপি প্রার্থী আব্দুল গফুর ভূঁইয়ার। অথচ এম এ কাইয়ুম ঠিকই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হয় নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকারের সঙ্গে। তবে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। কমিশনের অন্য কেউ আর ফোন ধরেননি।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন এনপিবি নিউজকে বলেন, ‘কোনো প্রার্থী নির্বাচনী হলফনামায় ভুল তথ্য বা অসম্পূর্ণ তথ্য দিলে তার আবেদন গ্রহণ করবেন না রিটার্নিং অফিসার। এরপর কেউ যদি তার অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্বের তথ্য গোপন করেন এবং তা প্রমাণিত হয় তবে তার প্রার্থীতা বাতিল হবে। নির্বাচন কমিশনে এ বিষয়ে যথাযথ অভিযোগ দিলে তার প্রার্থীতা বাতিল করতে হবে।’

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X