বৃহস্পতিবার
১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈদের পর একুশে বইমেলা আয়োজনের দাবি

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:৪৯ পিএম আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:১২ পিএম
একুশে বইমেলা
expand
একুশে বইমেলা

২০২৬ সালের অমর একুশে বইমেলার নির্ধারিত সময়সূচি পরিবর্তনের দাবিতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর বরাবর আবেদনপত্র পাঠিয়েছে বাংলাদেশ সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি।

১২৮ জন সৃজনশীল প্রকাশকের স্বাক্ষরসংবলিত এই চিঠির অনুলিপি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমান এবং বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

প্রকাশকদের দাবি অনুযায়ী, অমর একুশে বইমেলার সময়সূচি পরিবর্তন এখন আর কোনো সাধারণ দাবি নয়; বরং এটি বাংলাদেশের সৃজনশীল প্রকাশনা শিল্পকে টিকিয়ে রাখার জন্য একটি জরুরি ও অস্তিত্বমূলক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। তাদের মতে, সকল স্টেকহোল্ডার, অভিজ্ঞ সিনিয়র ও নিয়মিত পেশাদার প্রকাশকদের সঙ্গে বাস্তবভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে বিক্রিবান্ধব ও বাস্তবসম্মত সময় নির্ধারণ করলেই এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজনকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের অমর একুশে বইমেলা নির্ধারিত হয়েছে আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত, যা পবিত্র রমজান মাসের মধ্যে পড়ছে। প্রকাশকদের ভাষ্য অনুযায়ী, রমজান মাসে দিনের বেলায় পাঠকসমাগম অত্যন্ত সীমিত থাকে এবং সন্ধ্যার পর ইফতার, তারাবি ও ধর্মীয় ব্যস্ততার কারণে সাধারণ পাঠকদের পক্ষে মেলায় পর্যাপ্ত সময় দেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। পরিবার নিয়ে মেলায় আসার প্রবণতাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। ফলে স্টল ভাড়া, নির্মাণ ব্যয়, কর্মচারীর বেতন, পরিবহন ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচের তুলনায় বিক্রির পরিমাণ দাঁড়ায় নগণ্য। বাস্তব অর্থে, এই সময়ে বইমেলায় অংশগ্রহণ মানেই প্রকাশকদের জন্য প্রায় নিশ্চিত আর্থিক ক্ষতি।

প্রকাশকরা আরও উল্লেখ করেন, করোনাকালীন দীর্ঘস্থায়ী স্থবিরতার পর দেশের প্রকাশনা শিল্প এখনো পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। একের পর এক বইমেলায় লোকসান, পাঠকসংখ্যার হ্রাস এবং কাগজ ও মুদ্রণ ব্যয়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণে প্রকাশকরা বর্তমানে চরম অস্তিত্ব সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এই অবস্থায় রমজানকেন্দ্রিক সময়সূচিতে অমর একুশে বইমেলা আয়োজন করা প্রকাশনা শিল্পকে আরও গভীর সংকটে ঠেলে দেবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X