

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের জন্য দায়মুক্তি ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অধ্যাদেশ জারির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় খসড়া প্রস্তুতের জন্য আইন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির এক বৈঠকে এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
বৈঠক সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সাম্প্রতিক কয়েকটি গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের আইনি সুরক্ষার বিষয়টি আলোচনায় আসে।
গত ২৫ ডিসেম্বর জুলাই যোদ্ধা হিসেবে পরিচিত তাহরিমা জান্নাত সুরভী এবং ৩ জানুয়ারি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসানকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পরে মাহদী একদিন এবং সুরভী ১১ দিন পর জামিন পান।
আলোচনায় দায়মুক্তির কাঠামো কেমন হবে, তা নিয়েও পর্যালোচনা করা হয়। সূত্র অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে যেসব সময় দায়মুক্তি দিয়ে আইন বা অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল, সেগুলোর উদাহরণ তুলে ধরা হয়।
বিশেষ করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধাদের দায়মুক্তি দেওয়ার নজির অনুসরণ করে জুলাই যোদ্ধাদের ক্ষেত্রেও অনুরূপ অধ্যাদেশ জারির বিষয়ে মত দেওয়া হয়।
এর আগে ৪ জানুয়ারি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর একটি ছিল- ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ জনগণের সব কর্মকাণ্ডের জন্য দায়মুক্তি দিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অধ্যাদেশ জারি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এই দাবিটি উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া মানুষ জীবন বাজি রেখে ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। তারা আইনি সুরক্ষা পাওয়ার ন্যায্য দাবিদার। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে সরকার আগেই কাজ শুরু করেছে।
তিনি আরও বলেন, আরব বসন্তসহ বিভিন্ন দেশে গণ-অভ্যুত্থানের পর দায়মুক্তি সংক্রান্ত যেসব আইন প্রণয়ন হয়েছে, সেসব অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করা হবে।
পাশাপাশি সংবিধানের ৪৬ অনুচ্ছেদ এবং বাংলাদেশের অতীতের দায়মুক্তি সংক্রান্ত আইনগুলো বিবেচনায় নিয়ে আইন মন্ত্রণালয় খসড়া অধ্যাদেশ তৈরি করবে। তবে চূড়ান্ত অনুমোদন আসবে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক থেকে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তার না করার আহ্বান জানিয়ে ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়েছিল। সেখানে বলা হয়, গণ-অভ্যুত্থান সফল করতে ছাত্র-জনতা সক্রিয়ভাবে মাঠে ভূমিকা রেখেছে।
এছাড়া গত বছরের ৫ আগস্ট জারি করা জুলাই ঘোষণাপত্রে বলা হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের জাতীয় বীর হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে এবং শহীদ পরিবার, আহত যোদ্ধা ও আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতাকে প্রয়োজনীয় আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।
মন্তব্য করুন

