

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ওজন কমানো আজ অনেকের জীবনের লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু সেই লক্ষ্য পূরণে কখনো কখনো আমরা এমন পথে হাঁটি, যা শেষ পর্যন্ত জীবননাশের কারণ হয়ে ওঠে। ইনফ্লুয়েন্সার ও মেকআপ আর্টিস্ট তাসনিম তমার মৃত্যু যেন সেই প্রশ্নটাই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে—ওজন কমাতে গিয়ে আমরা কতটা অজানার পথে যাচ্ছি?
মাত্র ছয় মাসে ১২২ কেজি থেকে ৪২ কেজিতে নেমে আসেন তমা। তিনি অনুসরণ করেছিলেন জনপ্রিয় কিন্তু অতি কঠিন ওম্যাড (One Meal A Day) ডায়েট পদ্ধতি—যেখানে দিনে মাত্র একবার খাবার খাওয়া হয় এবং বাকি ২৩ ঘণ্টা উপবাসে থাকতে হয়। এই প্রক্রিয়ায় ওজন দ্রুত কমলেও শরীরে তৈরি হয় ক্যালোরির ঘাটতি ও পুষ্টির ভারসাম্যহীনতা। আর শেষ পর্যন্ত এই চরম খাদ্যাভ্যাসই তার জীবনে নিয়ে আসে ভয়াবহ পরিণতি।
ওম্যাড ডায়েট কীভাবে কাজ করে
ওম্যাড মূলত একধরনের ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং, যেখানে সারাদিন না খেয়ে এক ঘণ্টার মধ্যে প্রয়োজনীয় সব খাবার খেতে হয়। এতে ওজন কমলেও শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি-প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজ ও ফ্যাট-পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যায় না। পুষ্টিবিদদের মতে, দীর্ঘদিন এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে শরীরে অপুষ্টি, পেশিশক্তি হ্রাস ও ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদরা বলছেন, যেকোনো ডায়েটের আগে শরীরের চাহিদা বুঝে পরিকল্পনা নেওয়া জরুরি। ইন্টারনেট বা সামাজিক মাধ্যমে দেখে ডায়েট অনুসরণ করা বিপজ্জনক। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনের গবেষণায় দেখা গেছে,ওম্যাড ডায়েট স্বল্পমেয়াদে কার্যকর হলেও দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগ, রক্তে শর্করার ভারসাম্যহীনতা, ও মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে।
ভারতের পুষ্টিবিদরাও মনে করেন, দিনে একবার খাওয়া শরীরের জন্য যথেষ্ট নয়। এতে বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা, কোষ্ঠকাঠিন্য ও শক্তি হ্রাস হতে পারে। যারা ডায়াবেটিস বা হৃদরোগে আক্রান্ত, তাদের জন্য এটি প্রাণঘাতীও হতে পারে।
ওম্যাড ডায়েটের সম্ভাব্য ক্ষতি
১. শক্তির ঘাটতি: হঠাৎ কম ক্যালোরি খেলে পেশিশক্তি কমে যায়, সারাক্ষণ ক্লান্তি ও অবসাদ দেখা দেয়। ২. পানিশূন্যতা: ফ্যাট কম খাওয়ায় দেহকোষ অতিরিক্ত পানি শোষণ করে, ফলে গ্লাইকোজেন ভেঙে গিয়ে ডিহাইড্রেশন হয়। ৩. বিপাকক্রিয়ার ব্যাঘাত: মেটাবলিজম কমে যায়, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পায়। ৪. হরমোন ও মানসিক প্রভাব: স্ট্রেস হরমোন বেড়ে গিয়ে উদ্বেগ, রাগ, ও বিষণ্ণতা দেখা দেয়। ৫. ত্বক ও চুলের সমস্যা: পুষ্টির ঘাটতিতে ত্বকের উজ্জ্বলতা হারিয়ে যায়, চুল ঝরে যায় এবং নারীদের ক্ষেত্রে মাসিক অনিয়ম দেখা দেয়।
নিরাপদ থাকার উপায়
১. যেকোনো ডায়েট শুরু করার আগে অবশ্যই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন। ২. দিনে একবেলা খেলে খাবারে যেন প্রোটিন, ফাইবার, কার্বোহাইড্রেট ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট থাকে। ৩. পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। ৪. শরীর দুর্বল লাগলে বা মাথা ঘুরলে সঙ্গে সঙ্গে ডায়েট বন্ধ করুন।
ওজন নিয়ন্ত্রণ জরুরি, তবে জীবনের বিনিময়ে নয়। খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনতে হবে সুষমভাবে, শরীরের প্রতি সহানুভূতিশীল থেকে। ফাস্টিং বা ক্যালরি নিয়ন্ত্রণ ভালো, কিন্তু দিনে দুই বা তিনবেলা স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়াই দেহের জন্য বেশি নিরাপদ ও স্থায়ী সমাধান।
সূত্র: ওয়েবএমডি, হেলথলাইন , টাইমস অব ইন্ডিয়া ও অন্যান্য
মন্তব্য করুন
