বুধবার
০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘাড়ে ব্যথা হলে যা করবেন

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৩ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

ঘাড় ও কাঁধে ব্যথা এখন বেশ সাধারণ সমস্যা। দীর্ঘ সময় মোবাইল, কম্পিউটার বা ল্যাপটপ ব্যবহারের কারণে এ সমস্যা আরও বাড়ছে। ভুল ভঙ্গিতে বসা, ঘুমানো, পেশিতে টান, আঘাত কিংবা বয়সজনিত হাড়ের ক্ষয় থেকেও ঘাড়ে ব্যথা হতে পারে।

সাধারণ ব্যথা হলে দৈনন্দিন কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করে আরাম পাওয়া সম্ভব। তবে ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে বা হাত-পায়ে দুর্বলতা ও অবশভাব দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ঘাড়ে ব্যথার সাধারণ কারণ-

  • দীর্ঘ সময় মাথা নিচু করে মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার
  • ভুল ভঙ্গিতে বসা বা ঘুমানো
  • ঘাড়ের পেশিতে টান
  • দুর্ঘটনা বা আঘাত
  • সারভাইকাল স্পন্ডাইলোসিস
  • দীর্ঘ সময় একই ভঙ্গিতে কাজ করা
  • অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা

ঘাড়ের ব্যথা কমাতে যা করবেন

১. বসার ভঙ্গি ঠিক করুন

চেয়ার-টেবিলে বসার সময় পিঠ সোজা রাখুন। কম্পিউটারের মনিটর চোখের সমান উচ্চতায় রাখুন, যাতে বারবার ঘাড় নিচু করতে না হয়।

২. একটানা বসে থাকবেন না

দীর্ঘ সময় কম্পিউটারে কাজ করলে প্রতি ঘণ্টায় কয়েক মিনিট বিরতি নিন। উঠে হাঁটুন এবং ঘাড় ও কাঁধ ধীরে ধীরে নড়াচড়া করুন।

৩. মোবাইল ব্যবহারে সতর্ক থাকুন

দীর্ঘ সময় মাথা নিচু করে মোবাইল দেখলে ঘাড়ের ওপর চাপ পড়ে। ফোন ব্যবহারের সময় সেটি যতটা সম্ভব চোখের কাছাকাছি উচ্চতায় রাখুন।

৪. ঘুমের ভঙ্গি ঠিক করুন

অতিরিক্ত উঁচু বালিশ ব্যবহার না করে ঘাড় ও মেরুদণ্ড স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে—এমন বালিশ ব্যবহার করুন। উপুড় হয়ে ঘুমানো এড়িয়ে চলুন।

৫. ভারী ব্যাগ বহন এড়িয়ে চলুন

এক কাঁধে দীর্ঘ সময় ভারী ব্যাগ বহন করলে ঘাড় ও কাঁধের পেশিতে অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে।

৬. হালকা গরম বা ঠান্ডা সেঁক দিতে পারেন

ব্যথার ধরন অনুযায়ী বরফের প্যাক বা হালকা গরম সেঁক কিছুটা আরাম দিতে পারে। সরাসরি ত্বকের ওপর বরফ না দিয়ে কাপড়ে মুড়িয়ে ব্যবহার করুন।

৭. হালকা ব্যায়াম করুন

ব্যথা বেশি না থাকলে ঘাড় ধীরে ধীরে ডানে-বাঁয়ে ও সামনে-পেছনে নড়াচড়া করা যেতে পারে। তবে ব্যথা বাড়লে ব্যায়াম বন্ধ করুন। দীর্ঘমেয়াদি ব্যথায় ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি?

ঘাড়ের ব্যথা এক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে, বারবার ফিরে এলে বা ব্যথার সঙ্গে হাতে ঝিনঝিনি, অবশভাব কিংবা দুর্বলতা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। আঘাতের পর তীব্র ব্যথা, হাঁটতে সমস্যা বা হাত-পায়ের শক্তি কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ থাকলেও দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।

ঘাড়ব্যথার কারণ সবার ক্ষেত্রে এক নয়। তাই দীর্ঘদিনের ব্যথায় নিজে থেকে ব্যথার ওষুধ, ট্র্যাকশন বা ঘাড়ের কলার ব্যবহার না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank